বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আগামী বছরের জানুয়ারি মাসে বিএনপির ৩০ হাজার নেতাকর্মী গ্রেপ্তারে পুলিশ তালিকা করছে। গ্রেপ্তার ও নির্যাতন করে আন্দোলন দমন করা যাবে না। ৫০ হাজার পুলিশ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। ৫০ লাখ পুলিশ নিয়োগ দিয়েও সরকার রেহাই পাবে না। দেশের মানুষ আজ এই অগণতান্ত্রিক সরকারকে হঠাতে শপথ নিয়েছে। দেশের জনগণ একাত্তরের মত আরেকটি বিজয় দেখতে চাইছে। দেশের ১৬ কোটি মানুষ আজ আপনাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্র আজ শহীদ। সেই গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আন্দোলনের শপথ নিতে হবে।
সোমবার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে বিজয় দিবস উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনায় অংশ নেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ, মির্জা আব্বাস, সেলিমা রহমান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, শমসের মবিন চৌধুরী, কল্যাণ পার্টির চেয়রম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক প্রমুখ।
মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘দেশে একটি মাত্র শকুন আছে, সেটি হলো বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া’।- তার এমন বক্তব্যের জবাব দেয়ার ভাষা আমার জানা নেই। তার মত মানুষের মুখে এ ধরনের ভাষা শোভা পায়?
তিনি বলেন, দেশে হায়েনার মত আক্রমণ করছে আওয়ামী লীগ। পুঁজিবাজার থেকে শুরু করে সব কিছুই তারা খেয়ে ফেলেছে। আর সর্বশেষ তারা সুন্দরবন খেতে আগ্রাসন চালিয়েছে। সুন্দরবন খেতে শুরু করেছে তারা।
ফখরুল বলেন, আজ দেশে গণতন্ত্র বলতে কিছু নেই। এ সরকার সব কিছু বিলুপ্ত করে দিয়েছে। জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে। স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিলেন খালেদা জিয়া। এবারও আন্দোলন করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবেন। তার সঙ্গে দেশের জনগণ রয়েছেন। তিনি বলেন, এভাবে গুম, খুন করে কোনো স্বৈরাচার ঠিকে থাকতে পারেনি, বর্তমান সরকারও পারবে না। তাদের সঙ্গে জনগণ নেই, তাদের পায়ের নিচে মাটি নেই।
মির্জা আব্বাস বলেন, একাত্তরের মত আরো ত্রিশ লাখ মানুষের রক্তের বিনিময়ে মতাসীন সরকারকে হটিয়ে দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।