অস্ট্রেলিয়ার ব্যস্ত শহর সিডনির একটি ক্যাফেতে জিম্মি নাটকের অবসান হয়েছে। লিন্ডট চকলেট নামের একটি কফি শপে দেশটির বিশেষ বাহিনী এবং পুলিশ দুই দিক থেকে সশস্ত্র অভিযান চালিয়ে ১৬ ঘণ্টার এই নাটকের অবসান ঘটায়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, অভিযান চলাকালে বিশেষ বাহিনীর গুলিতে বন্দুকধারীসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। গতকাল সোমবার সকালে ক্যাফেতে এক বন্দুকধারী প্রবেশ করেন এবং ৪০ থেকে ৫০ জনকে জিম্মি করেন। খবর বিবিসি, রয়টার্স ও সিএনএন’র।
সারাদিন ঘিরে রেখে মধ্যরাতের পর ভারী অস্ত্র নিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী কফি শপে অভিযান চালায়। এ সময় গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। আহতদের স্ট্রেচারে করে বের করে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। এর আগে পুলিশ জানায়, জিম্মি নাটকের হোতা ওই বন্দুকধারীর পরিচয় পাওয়া গেছে। হারুন মনিস নামে ইরান থেকে আসা এই রাজনৈতিক শরণার্থী একটি মসজিদের ইমাম। অস্ট্রেলিয়ার কয়েকটি গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে, অভিযানে বন্দুকধারীসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। জিম্মি সংকটের এই নায়কের নাম পুলিশের খাতায়ও আছে অনেকদিন ধরে। পুলিশ জানায়, সাবেক স্ত্রীকে হত্যা মামলাসহ অন্তত ৪০টি যৌন অপরাধ এবং লাঞ্ছনার মামলা রয়েছে হারুনের বিরুদ্ধে। এসব মামলায় হারুন জামিনে ছিলেন। এছাড়া ২০১২ সালে আফগানিস্তানে নিহত আটজন সৈন্যের স্ত্রীর কাছে আপত্তিকর চিঠি পাঠানোর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন হারুন। ১৯৯৬ সালে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় আসেন এবং রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেন। হারুনের সাবেক আইনজীবী তাকে এক ‘নি:সঙ্গ লোক’ বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, হারুন মনিস যে ধরনের কট্টর মতাদর্শে বিশ্বাস করেন, তাতে করে সাধারণ বোধ-বুদ্ধি লোপ পেয়েছে বলে মনে হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় একটি ব্যাগ নিয়ে ক্যাফেতে প্রবেশ করেন বন্দুকধারী। এরপর তিনি সেখানে অবস্থান করা সবাইকে জিম্মি করেন। পুলিশ জানায়, বন্দুকধারী দেশটির প্রধানমন্ত্রী টনি অ্যাবোটের সঙ্গেও কথা বলতে চান। ক্যাফের জানালায় সাদা-কালো রঙ্গের ইসলামি পতাকা উড়তে দেখা যায়। জিম্মি করার পর ৫ জনের মতো পালিয়ে আসতে সক্ষম হন। পরে নিরাপত্তা বাহিনী তার পরিচয় জানার পর সশস্ত্র অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। স্থানীয় সময় রাত ২টায় অভিযান চালিয়ে জিম্মিদের মুক্ত করা সম্ভব হয়।