‘সকালে আমার ছেলে ইউনিফর্মে ছিল, এখন সে কফিনের মধ্যে। আমার ছেলে আমার স্বপ্ন ছিল। আমার স্বপ্নকে খুন করা হয়েছে।’ হাসপাতালে ছেলের লাশ নিতে এসে তাহির আলি এই বলে বিলাপ করছিলেন। তার ১৪ বছর ছেলে আবদুল্লাহ পাকিস্তানের পেশোয়ারে তালেবানদের হামলায় নিহত হওয়া হতভাগ্য শিশুদের মধ্যে একজন। খবর: টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে পেশোয়ারের আর্মি পাবলিক স্কুল ও ডিগ্রি কলেজে সামরিক বাহিনীর পোশাকে ছয় তালেবান দেয়াল টপকে প্রবেশ করে। এরপর কাসরুমে গিয়ে তারা গুলি চালাতে থাকে। এতে ১৩২ শিশুসহ ১৪১ জন নিহত হয়েছে।
স্কুলের কর্মচারী মুদাসসার আওয়ার ছয়জনকে দেয়াল টপকাটে দেখেছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম, শিশুরা কোনো খেলা খেলছে। কিন্তু এরপর আমরা তাদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র দেখতে পাই। গুলিবর্ষণের সঙ্গে সঙ্গে আমরা দৌঁড়ে কাস রুমে চলে যাই। বন্দুকধারীরা প্রত্যেকটি কাসরুমে যায় ও শিশুদের হত্যা করে।’
আবদুল্লাহ জামাল নামে এক শিক্ষার্থী দুনিয়া টিভিকে বলেছে, ‘একজন সেনা চিকিৎসক আমাদের দেখতে এসেছিলেন ও প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে শিক্ষা দিচ্ছিলেন, এমন সময় হামলাকারীরা স্কুলের ভেতর প্রবেশ করে ও গুলি চালাতে শুরু করে। এসময় আমাদের শিক্ষকরা কাসরুমের দরজা বন্ধ করে দেয় ও আমরা মেঝেতে শুয়ে পড়ি। কিন্তু হামলাকারীরা দরজা ভেঙে ফেলে। তারা প্রথমে শূন্যে ও পরে শিশুদের গুলি করতে থাকে।’
সে আরো জানায়, ‘তাদের লম্বা দাঁড়ি ছিল, ঢিলেঢালা পোশাক পরা ছিল ও আরবিতে কথা বলছিল।’
জামশেদ খান নামে এক স্কুল বাস চালক স্কুলের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ‘এমন সময় হঠাৎ করে গুলিবর্ষণের শব্দ শুনতে পাই। শিশু ও শিক্ষককদের চিৎকার শুনতে পেয়েছি। শিশুরা পড়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত আমরা কেউ বুঝতে পারছিলাম না কি হচ্ছে। যখন তাদের গুলি করা হচ্ছিল, তখন তারা কান্না ও চিৎকার করছিল। আমিও নিচে পড়ে যাই। পরে বুঝতে পারি আমার পায়ে গুলি লেগেছে।’ হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে এসব বলেছেন তিনি।
আক্রমণের সময় পালিয়ে আসা এক শিক্ষক বলেছেন, আমার হলে পরীক্ষা নেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এমন সময় বন্দুকধারীরা হামলা চালায় ও গুলিবর্ষণ করতে থাকে।
বেনামী একটি সামরিক সূত্র এনবিসিকে জানিয়েছে, তারা এক শিক্ষককে শিক্ষার্থীদের সামনে পুড়িয়ে মেরেছে। তারা ঐ শিক্ষকের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় ও শিশুদের দেখায়।