বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে তত্কালীন বেলস পার্কের জনসভায় বরিশালে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ২০১১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। অগ্রযাত্রার ৯ম বর্ষে পদার্পণ করেছে দক্ষিণবঙ্গের বাতিঘর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। হাইওয়ে সংলঘ্ন হওয়ায় পথযাত্রীরা জানাল দিয়ে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে নান্দনিক স্থাপত্যশৌলির দিকে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও প্রত্যাশা ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে। একঝাঁক তরুণ শিক্ষকমণ্ডলীর একান্ত প্রচেষ্টায় এগিয়ে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। ইতিমধ্যেই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব কালচার গড়ে উঠেছে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস র্যাগিং ও ধূমপান মুক্ত ক্যাম্পাস হিসেবে স্বীকৃত।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের (সিএসই) শিক্ষার্থীদের তৈরি কৃষি কাজে ব্যবহার উপযোগী ড্রোন উদ্ভাবনের পর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রথমবারের মতো সফলভাবে আকাশে উড়ানো হয়েছে। ড্রোনটি দিয়ে জমির ছবি ধারণ করা, নির্দিষ্ট দূরত্বে বা প্রত্যন্ত এলাকায় অনাবাদি বা কম ফলনশীল জমির অবস্থা নিরূপণ এবং পরবর্তী সময়ে এসব ছবি অ্যানালাইসিস করে বের করা যাবে এসব জমি কেন অনাবাদি, কী পরিমাণ চাষাবাদ হচ্ছে, সমস্যাটা কোথায়, কিভাবে আবাদযোগ্য করা যায়। ফসলে কোনো ধরনের পোকা বা জীবাণু আক্রমণ করেছে কি না তা-ও শনাক্ত করা যাবে। ড্রোনের মাধ্যমে বিশাল কোনো জমিতে নিখুঁতভাবে সার বা কীটনাশক দেওয়ার কাজটিও করা যাবে। কৃষিক্ষেত্রে এ রকম নানা সমস্যা চিহ্নিত করে গবেষণার মাধ্যমে সমাধানের জন্য কাজ করা যাবে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক থেকে শুরু করে ক্লাসরুম, গ্রন্থাগারে বই, আবাসিক হল, বাসসহ নানান সংকট রয়েছে। নানা সংকট সত্ত্বেও ছাত্রদের মেধা-মননকে কাজে লাগিয়ে সুপ্ত প্রতিভার উন্মেষ ঘটানোর জন্য শিক্ষা ও সংস্কৃতির সম্বন্বয়ে গৃহীত হয়েছে বহুমুখী পদক্ষেপ।