লক্ষ্মীপুরে বাঁশের তৈরি কুটির শিল্পে পাঁচ'শ পরিবার

লক্ষ্মীপুরে বাঁশের তৈরি কুটির শিল্প ধরে রেখেছে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের কয়েকশ’ পরিবার। আর এ কুটির শিল্পে কাজ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন তারা। এসব পরিবারের নারী-পুরুষের হাতে তৈরিকৃত বাঁশের শৈল্পিক বিভিন্ন ধরণের পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে ঢাকা-চট্রগ্রামসহ  দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। সরকারি বা বেসরকারি কোন দাতা সংস্থার সহযোগিতা পেলে এ পেশায় আরো বহু লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিসহ প্রচুর পরিমাণ অর্থ উপার্জন করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন শিল্প সংশ্লিষ্টরা।
জেলার ৫টি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় লোকজন এ শিল্পের কাজ করলেও লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার শহর কসবা গ্রামের প্রায় ৫শ’ পরিবার ৫০ বছরেরও বেশী সময় ধরে ঐতিহ্যগতভাবে বাঁশের তৈরি বিভিন্ন পণ্য তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। এই শিল্পে কাজ করে স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে তাদের পারিবারে। সংসারের স্বচ্ছলতার পাশাপাশি সন্তানদের লেখাপড়ার খরচও চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। শিল্পায়নের ফলে বর্তমানে প্লাষ্টিক সামগ্রী প্রচুর পরিমাণে বাজারজাত হওয়ার কারেণ কিছুটা সমস্যা সৃষ্টি হলেও পূর্ব পুরুষের ঐতিহ্যবাহী এই  পেশাকে ধরে রেখেছে তারা। 
এর মধ্যে সদর উপজেলার শহর কসবা গ্রামে ব্যাপকভাবে তৈরি হচ্ছে, টুকরি, ছালনি, খাঁচা, কুলা, মাছ ধরার বিভিন্ন ফাঁদ, টেপা, লাই-ওড়াসহ (ধান রাখার বড় পাত্র) বাঁশের তৈরি বিভিন্ন জিনিস-পত্র। 
বাঁশের তৈরিকৃত এ পণ্যগুলো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এখনও প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হচ্ছে। এখানকার বাঁশের তৈরি পণ্যগুলো শৈল্পিক ও সুন্দর হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে এর কদর রয়েছে। বাজারজাত করার লক্ষ্যে জেলা শহরের গো-হাটা রোড, মান্দারী বাজার, জকসিন বাজারে কারিগররা যখন তাদের পণ্যের পসরা নিয়ে বসে, তখন ক্রেতারা শৈল্পিক সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হয়ে এসব পণ্য ক্রয় করেন। এ শিল্পে কাজ করে প্রায় ৫শতাধিক পরিবারের ভাগ্যবদল হলেও বর্তমানে অসংখ্য পরিবার ঋণের বেড়াজালে বন্দী হয়ে আছে। অর্থের অভাবে তারা এ শিল্পকে এগিয়ে নিতে পারছে না। 
সরকারি ভাবে কোন ঋণ সহায়তা না পাওয়ায় তাদের বাধ্য হয়ে ঋণ নিতে হচ্ছে স্থানীয় এনজিওগুলো থেকে। এতে লাভের চেয়ে এনজিও গুলোর  কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে তারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন । এতে করে হারাতে হচ্ছে মূলধন।
এ পেশার কারীগর শহর কসবা গ্রামের আহসান উল্যা, লক্ষণ সাহা ও মিনতি বালা জানান, বিগত ৫০বছর যাবত গ্রামের ৪/৫শত পরিবার বাঁশের তৈরি কুটির শিল্পের কাজে জড়িত। কিন্তু সরকারিভাবে তারা কোন ঋণ সুবিধা পাচ্ছেন না। সরকারিভাবে যদি তাদেরকে স্বল্প সুদে ক্ষুদ্র ঋণ দেয়া হতো, তাহলে এ পেশায় তারা আরো  ভালো করতে পারতো। বাজারে বাঁশের তৈরি পণ্যের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও শুধু মাত্র অর্থ সংকটের কারণে তারা ঠিক মতো মালামাল সরবরাহ করতে পারছেন না।
সরকারিভাবে স্বল্প সুদে কারিগরদের ঋণ ও প্রশিক্ষণ সহায়তা দেয়া হলে এই শিল্পটি টিকে থাকাসহ গতিশীল হবে দেশের অর্থনীতি, এমনটাই মনে করেন শিল্প সংশ্লিষ্টরা।