পেশওয়ারে সেনাপরিচালিত স্কুলের শিশুদের অনেকটা নাটকীয়ভাবে হত্যা করেছে তালেবানরা। তাদের সঙ্গে মনস্তাত্ত্বিক খেলা খেলার মধ্য দিয়ে সহপাঠীদের সামনেই গুলি করে নিভিয়ে দেয়া হয় কতগুলো তাজা প্রাণ। একসময় পুরো ক্লাসই ভেসে যায় রক্তের বন্যায়। এভাবেই নিজ সহপাঠীদের নিহত হওয়ার দৃশ্য বর্ণনা করেন বেঁচে যাওয়া আরেক শিক্ষার্থী। খবর এনডি টিভির।
গত মঙ্গলবার পাকিস্তানের উত্তর-পাশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকায় সেনাপরিচালিত একটি স্কুলে হামলা চালায় তালেবান জঙ্গিরা। এতে অন্ততপক্ষে ১৪১ জন নিহত হয়, যাদের অধিকাংশই শিশু। পাকিস্তানে তেহরিক-ই-তালেবানের মুখপাত্র মোহাম্মদ খোরাসানি বলেছেন, সামরিক অভিযানের প্রতিশোধ হিসেবে তাদের ওপর এ হামলা চালানো হলো। নিজের সন্তান হারানোর ব্যাথা তারা এবার অনুধাবন করতে পারবে, যা তারা আমাদের সাথে করেছে। এ হামলা দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী এক ঘটনা। এতে পাকিস্তানসহ পুরো বিশ্বে নিন্দার ঝড় উঠেছে। এ ছাড়া, এর সমুচিত্ জবাব দেয়া হবে বলে দেশটির রাজনৈতিক নেতা ও সেনাবাহিনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এর আগে জীবিত যারা হামলার ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে তারা বলেছিল, তালেবানরা তাদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। তারা বেঁচে যায়, কিন্তু হামলাকারীরা যাওয়ার আগ পর্যন্ত মৃতের ভাণ করে পড়ে থাকে।
পেশওয়ার হাসপাতালে চিকিত্সাধীন ১৪ বছর বয়সী শাহনেওয়াজ খান বলেন, হামলাকারীরা তাদের সাথে নির্মম খেলা খেলে। সে জানায়, তাদের ক্লাসের মাঝামাঝি সময়ে এসে হঠাত্ করে গুলির শব্দ শোনা যায়। সেই সাথে শিক্ষার্থীদের চিত্কার। এরপর বন্দুকধারীরা দরজা ঠেলে আমাদের ক্লাসে ঢোকে। তাদের হাতে ছিল একে৪৭ রাইফেল। তারা আমাদের বলে, ৮ জন হাত তোল, যারা চলে যেতে চাও। আমরা সবাই হাত তুলি। তারা শুধু ৮ জনকে নিয়ে ব্লাকবোর্ডের সামনে দাঁড় করায় এবং তাদের গুলি করে। মাটিতে পড়ে গিয়ে যখন তারা কাতরাচ্ছিল, তখন আবারো তাদের ওপর গুলি করে তারা। এরপর আরো ৮ জনকে আসতে বলে। তখন আমরা কেউ আর হাত না তুলে বরং একে অন্যের হাত শক্ত করে ধরে থাকি। কিন্তু তারা আবারো ৮ জনকে জোর করে টেনে নিয়ে সামনে দাঁড় করায়। এ সময় হামলাকারীর অপর সঙ্গী সেনাবাহিনী আসার খবর দিলে তারা আমাদের ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে। এতে আমার কাঁধে দুটি গুলি এসে পড়ে। এরপর যখন আমার জ্ঞান ফেরে তখন আমি হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে।