২০১৫ সালের মধ্যে ৫ম মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোলের (এমডিজি) প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে ৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ একটি।
এই দেশগুলো নিম্ন আয়ের অথবা মধ্য আয়ের দেশ। জাতীয় পর্যায়ে পরিচালিত এই জরিপে মাতৃমৃত্যু হার ও স্বাস্থ্যসেবার মানের ওপর অধিক গুরুত্ব দেয়া হয়।
২০০১ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত পরিচালিত জরিপে বাংলাদেশ মাতৃমৃত্যু জরিপে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, এ সময়ে মাতৃমৃত্যুহারে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে।
জরিপে দেখা গেছে, ১৯৯৮ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণকারী এক লাখ নবজাতক শিশুর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৩২২টি শিশুর।
অপরদিকে ২০০৭ থেকে ২০১০ সালে মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৯৪টি শিশুর। বার্ষিক শিশু মৃত্যুহার ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০১৫ সালের মধ্যে এমডিজি অর্জনে নির্ধারিত মৃত্যুহারের চেয়ে সামান্য বেশি।
এ সময়ে জন্য মৃত্যুহার নির্ধারিত রয়েছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। স্বাস্থ্যসেবার মানের উন্নতি হওয়ায় এই মৃত্যুহার হ্রাস পেয়েছে। এই একই সময়ে আরো ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। এগুলো হলো জন্মহার হ্রাস, মাতৃমৃত্যু ঝুঁকি হ্রাস, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, দারিদ্র্যতা হ্রাস এবং নারী শিক্ষার হার বৃদ্ধি।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী জন্মহার ও মাতৃমৃত্যু ঝুঁকি কমার কারণে ২০১০ সালে এসে মৃত্যুহার ৫২ শতাংশ হয়েছে।
বাংলাদেশে মাতৃমৃত্যু হার হ্রাসে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি বিশ্বের অন্যান্য দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষণীয় বিষয় হয়েছে। এতে এমডিজি লক্ষ্যমাত্রা এবং কৌশল নির্ধারণের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশের জন্য এই অভিজ্ঞতা সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্য সুবিধা বাড়াতে আরো অধিক বিনিয়োগের পাশাপাশি ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। তৃণমূল পর্যায়ে জনসচেতনতা বাড়াতে পারলে মাতৃমৃত্যু হার আরো হ্রাস পাবে। এ জন্য গ্রাম পর্যায়ে দরিদ্র লোকদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে স্বাস্থ্যসেবা বাড়াতে হবে।
ডা. নওসীন পুরবি বাসস’কে বলেন, অধিকাংশ নারী তার গর্ভকালীন অথবা সন্তান প্রসবকালে কোন চিকিৎসকের সঙ্গে আলাপ করার ক্ষেত্রে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন। তারা নানা ধরনের জটিলতায় ভুগলেও চিকিৎসকের কাছে যেতে নিরুৎসাহিত হন।
ডা. নওসীন বলেন, বাংলাদেশে মাতৃ ও প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। এ ক্ষেত্রে তরুন ও বয়স্কা নারীর মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। দারিদ্র্যতা এখানে মূল সমস্যা নয়। তাদের মধ্যে সচেতনতার অভাব অন্যতম কারণ।
ডা. পুরবি এখন টাঙ্গাইল জেলায় তার নিজ গ্রামে স্বেচ্ছায় বক্তব্য দিচ্ছেন এবং একটি টিভি অনুষ্ঠান করছেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন তার এই অনুষ্ঠানটি প্রচার করছে।
প্রতি সপ্তাহে সহ¯্রাধিক প্রশ্ন আসছে। দরিদ্র মায়েদের মধ্যে একটি ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। গত তিন বছরে তিনি বিপুল সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। এদের অধিকাংশই কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তারা এখন পল্লী এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা এবং ঘাতক ব্যাধি এইডস সম্পর্কে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান প্রচার করছে।
স্বাস্থ্য সচেতনতায় বিশেষ অবদান রাখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর ডা. পুরবিকে আন্তর্জাতিক ভিজিটর লেডারশিপ প্রোগ্রাম-২০১২ এর জন্য মনোনিত করে।
ক্যান্সার প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে দক্ষিণ এশীয় রোটার্যাক্ট সম্মেলন-২০১২ এবং ক্যান্সার প্রতিরোধ সংক্রান্ত গ্লোবাল ফোরামে অথিথি বক্তা হিসেবে তিনি আমন্ত্রিত হন। খবর বাসস।