শোকসভায় বক্তারা

ক্যানভাসে প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গেছেন কাইয়ুম চৌধুরী

 
 
 
 
ব্যবহারিক শিল্পের জন্য কাইয়ুম চৌধুরী খ্যাতি পেলেও ক্যানভাসেও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গেছেন। শুধু চিত্রে নয়, শিল্পের সব শাখায় বিচরণ করেছেন। ’৫০-এর দশকে চলচ্চিত্র নিয়ে পূর্ণাঙ্গ একটি পত্রিকার প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার কাইয়ুম চৌধুরীর স্মরণে বাংলা একাডেমি আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় বক্তারা এ সব কথা বলেন।
বাংলা একাডেমির আব্দুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন সাহিত্য সমালোচক অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন খান জাহাঙ্গীর। বক্তৃতা করেন এমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, লেখক ও কবি সৈয়দ শামসুল হক, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, চিত্রশিল্পগুী হাসেম খান, কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, ‘কালি ও কলম’  সম্পাদক আবুল হাসনাত।
আনিসুজ্জামান বলেন, প্রচ্ছদ অংকনে এমন এক বিশেষত্ব তৈরি করেছিলেন কেউ বই লিখলেই প্রচ্ছদের জন্য কাইয়ুম চৌধুরীর কথাই ভাবতেন। আমার ছয়টি বইয়েরই প্রচ্ছদ করেছেন তিনি।
তিনি বলেন, ব্যবহারিক শিল্পের জন্য কাইয়ুম চৌধুরী খ্যাতি পেলেও ক্যানভাসেও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গেছেন। শুধু চিত্রে নয়, শিল্পের সব শাখায় বিচরণ করেছেন। ’৫০-এর দশকে চলচ্চিত্র নিয়ে পূর্ণাঙ্গ একটি পত্রিকার প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি।
কিশোর, তরুণ, যুবক, পরিণত, বয়োবৃদ্ধ সব বয়সের কাইয়ুম চৌধুরীকে সৈয়দ শামসুল হক শ্রোতাদের সামনে তুলে ধরেন। স্মৃতি থেকে আনন্দ-বেদনার কথা বলতে গিয়ে বারবার অশ্রুসজল হয়ে পড়েন সব্যসাচী এই লেখক।
কবিতার লাইনে কাইয়ুম চৌধুরীর প্রয়াণকে ‘মৃত্যুহীন মৃত্যুর চিত্রন জীবনের তুলিতে’ আখ্যা দেন সৈয়দ হক। প্রিয় বন্ধুর স্মৃতিতে নিবেদন করে একটি কবিতাও লিখেছেন। শোক সভায় তা আবৃত্তি করেন। কিশোর বয়সের স্মৃতি তুলে ধরে বলেন, সদরঘাটে হোটেলে বসে আমাদের কথা হতো। কাইয়ুম কবিতা লেখা শিখতে চাইত। আমাকে ছবি আঁঁকা শেখাত। শেষ বয়সে কবিতা লিখেও ছিল। কিন্তু প্রকাশ করে যেতে পারেননি। এই কবিতাগুলো প্রকাশের উদ্যোগ নিতে সবার প্রতি অনুরোধ জানান সৈয়দ হক।
তিনি বলেন, অনেকেই কাইয়ুম চৌধুরীকে বাণিজ্যিক শিল্পী বলে খাটো করার চেষ্টা করতেন। তারা দেখুক— মাথার ওপর শিল্পচার্য জয়নুল আবেদীন ও কামরুল হাসান থাকার পরও যুবক কাইয়ুম চৌধুরীকে নিজেকের প্রতি ধাপে উত্তীর্ণ করেছেন। পুরো দেশ জাতিকে কেউ যদি নান্দনিক রূপে গড়ে তুলেন তাহলে তিনি কাইয়ুম চৌধুরী।
বোরহান উদ্দিন খান জাহাঙ্গীর কাইয়ুম চৌধুরীর আঁঁকা ছবিগুলো নিয়ে বিশেষ প্রদর্শনী আয়োজনের দাবি জানান। এ দিকে, বাংলা একাডেমি কাইয়ুম চৌধুরীর প্রচ্ছদ আঁঁকা বই নিয়ে প্রদর্শনীর আয়োজন করেছেন। ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ভবনে এই প্রদর্শনী আগামী রবিবার পর্যন্ত চলবে।