তারেক মানসিক বিকারগ্রস্ত সারমেয়: হাছান মাহমুদ

 
 
 
 
‘তারেকের কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য তার হিতাহিত জ্ঞানশূন্যতার পরিচয় দিয়েছে। তিনি মানসিক বিকারগ্রস্ত সারমেয়। তার কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের জন্য বাংলার মানুষ তাকে কাছে পেলে জিহ্বা কেটে নিত। বিএনপি নেতাদের প্রতি তারেক রহমানকে সমর্থন না দিয়ে সামলানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।’ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে হাছান মাহমুদ এ কথা বলেন। সম্প্রতি লন্ডনে বঙ্গবন্ধুকে উদ্দেশ্য করে তারেক রহমানের বিতর্কিত বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ করেনি বলে তারেক রহমান বক্তব্য দিয়েছেন। অথচ মুক্তিযুদ্ধের সময় তারেক রহমানের বাবা জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে গঠিত আওয়ামী লীগ সরকারের কাছ থেকেই বেতন নিতেন। সেই সরকারের সৃষ্ট সেক্টর কমান্ডারের দায়িত্বও পালন করেছেন। তার বক্তব্যে দেশবাসী শুধু বিস্মিতই নয়, তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেছে।’
আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মণি এমপি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের দল। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছে। তারেক রহমান লন্ডনে বসে ইতিহাস বিকৃত করছেন। তিনি আগামী প্রজন্মের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াতে চায়। নিজেও আলোচনায় থাকতে চান। যদি সাহস থাকে বিদেশে বসে নয়, দেশের মাটিতে এসে তারেক এ সব কথা বলুক।’
তিনি বলেন, ‘‘তারেক রহমানের পিতা জিয়া ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ প্রথম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সাপ্তাহিক বিচিত্রা পত্রিকায় ‘একটি জাতির জন্ম শিরোনাম’ প্রবন্ধে বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা হিসেবে উল্লেখ করেন। জিয়াউর রহমানও যদি তারেকের অশোভন ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য শুনতেন, তাহলে কবরে লজ্জায় কাত হয়ে যেতেন। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের ক্রীড়ানকের মতো আচরণ করছেন তারেক। তিনি অশুভ খেলায় মেতে উঠেছেন। এ অশুভ শক্তিকে প্রতিরোধ করতে হবে।’
হাছান মাহমুদ একটি কাগজের কপি প্রদর্শন করে বলেন, ‘তারেক রহমান লন্ডনে যাওয়ার আগে রাজনীতি ছেড়ে দেয়ার মুচলেকা দিয়েছিলেন। মুচলেকা দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তারেক রাজনীতি থেকে অবসর গ্রহণ করেছিলেন। নিচে তার (তারেক) স্বাক্ষর রয়েছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পাক হানাদার বাহিনী এবং তাদের এ দেশীয় দোসরদের যে পরিণতি হয়েছিল, তারেকের ভাগ্যেও একই পরিণতি অপেক্ষা করছে।’
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. বদিউজ্জামান ভূঁইয়া ডাবলু, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, কেন্দ্রীয় সদস্য মো. আখতারুজ্জামান, সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ।