ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা বলেছেন, ‘অনেক ইস্যুতে মতভিন্নতা থাকলেও বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বর্তমানে সর্বোচ্চ অংশীদারিত্বমূলক সম্পর্ক বিরাজ করছে। দায়িত্ব পালনকালে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক গভীর, বিস্তৃত ও দৃঢ় হওয়ায় আমি খুবই গর্বিত।’ বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে তার কার্যালয়ে বিদায়ী সাক্ষাত্ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
মজীনা বলেন, ‘একটি ভালো সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে কিছু বিষয়ে মতানৈক্য থাকা। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বন্ধু কানাডার সঙ্গেও কিছু বিষয়ে মতভিন্নতা রয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বিষয়ে মতভিন্নতা থাকতে পারে। সেই বিষয়গুলো আমরা চিহ্নিত করেছি।’
‘পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা ইস্যুতেও আলোচনা হয়েছে’ জানিয়ে মজীনা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় কৌশলের অংশ হিসেবে এই ইস্যুতে সহায়তা করছে। এ সমস্যা নিরসনে তার দেশের সহায়তা অব্যাহত থাকবে। মিয়ানমারের এ সব নাগরিকদের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামাও অবগত আছেন। এজন্যই তিনি বলেছেন— রোহিঙ্গা ইস্যুর সমাধান মিয়ানমারের অভ্যন্তরেই রয়েছে।’
মজীনা বলেন, ‘দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়নে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে যে সহযোগিতা পেয়েছি, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। কৃষি, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, বৈশ্বিক জলবায়ু মোকাবিলাসহ বিভিন্ন খাতের উন্নয়নে সরকারের যে সহায়তা পেয়েছি, তার জন্যও কৃতজ্ঞ।’
মজীনা বলেন, ‘বাংলাদেশ আমার হূদয় ছুঁয়েছে। চলে যেতে মন চাইছে না। কিন্তু চলে যেতে হবে। কয়েক দিনের মধ্যেই আমি বাংলাদেশ ছেড়ে যাব। এটাই বাস্তবতা।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২০১১ সালের নভেম্বরে ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে যোগ দেন মজীনা। তার উত্তরসূরি হিসেবে নতুন রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া স্টিফেন্স ব্লুম বার্নিকাট জানুয়ারির শেষ দিকে দায়িত্ব নিতে বাংলাদেশে আসবেন।