যে কোন সময় ডাক পড়বে, গুলি চালালে জবাব

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, যে কোন সময় ডাক পড়বে, সকলকে রাজপথে নামতে হবে। এবার আর রাজপথ খালি থাকবে না। এবার যদি একটা গুলি চলে তাহলে জবাব দিতে আমরা প্রস্তুত।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে খালেদা জিয়া বলেন, নিজের মুখটা সামাল দেন। যে ভাষায় কথা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মুখে তা মানায় না। আমি বলবো, আপনিও ভালো থাকুন, রাজনীতি করুন। জনগণের আন্দোলনে বাধা দেবেন না। গুলি চালালে জবাব পাবেন। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের দল করতে হলে তার আদর্শ মানতে হবে। কেউ ব্যতিক্রম হলে  তার বিরুদ্ধে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে থাকি।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ‘৯০-এর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় সংসদ (ডাকসু) এবং তত্কালীন সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের’ উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী ছাত্র কনভেনশনে তিনি এ কথা বলেন।
কনভেনশনে সারাদেশ থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত সাবেক ও বর্তমান ছাত্রনেতারা যোগ দেন। এতে সভাপতিত্ব করেন ডাকসুর সাবেক ভিপি ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্ল­াহ আমান।
খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় বসে এখন দেশের ইমেজ নষ্ট করছে। যা মুখে আসে তাই বলতে শুরু করেছে। আমরা যা বলি, সত্য বলি, তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে বলি।
বেগম জিয়া বলেন, দেশ আজ এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। বড় বড় ব্যবসায়ীরা ব্যবসা-বাণিজ্য গুটিয়ে বিদেশ চলে যাচ্ছেন। আর বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এ দেশে বিনিয়োগ করতে ভয় পাচ্ছেন। সকলকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, আমি ছাত্র নেতাদের বলবো শুধু তালি বাজিয়ে শ্লোগান দিলে আর গালি দিলে হবে না।  ঢাকাকে দোষ না দিয়ে সকলকে প্রস্তুত থাকতে হবে। এবারের আন্দোলনে ঢাকার রাস্তা খালি থাকবে না। সকলকে প্রস্তুত থাকতে হবে। গুলি অত্যাচার টিয়ার গ্যাস উপেক্ষা করে সকলকে রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দিয়ে জনগণকে রাজপথে নামিয়ে অধিকার আদায় করবো। সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সাহস থাকলে বালুর ট্রাক দিয়ে বাসা আটকে রাখবেন না। দেখুন কি করতে পারি। আওয়ামী লীগের উপর জনগণ অতিষ্ঠ।
পুলিশ বাহিনীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আপনারা জনগণের সেবক। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় আপনাদের বেতন হয়। আওয়ামী লীগ বলতে পারে গুলি করতে কিন্তু আপনি গুলি করছেন কাকে? কি করে দেশের মানুষকে গুলি করেন, এরা তো বিদেশি কেউ না। তিনি বলেন, এই বাহিনীতে বেশিরভাগ পুলিশ ভালো। একটি বিশেষ জেলার পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা এসব কাজ করছে।
বিএনপির গন্ধ পেলেই চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বিডিআর প্রশাসন পুলিশ বাহিনীকে ধ্বংস করে দিয়েছে। বিএনপি গন্ধ পেলেই চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রশাসনে দুরবস্থা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিএনপির সমর্থক হলে চাকরিচ্যুতি আর আওয়ামী লীগ হলে প্রমোশন দেয়া হচ্ছে।
গোয়েন্দারা ভুয়া তথ্য দিচ্ছে দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, যখন সময় ফুরিয়ে আসে তখন গোয়েন্দারা ভুয়া তথ্য দেয়। আর সময় বুঝে কেটে পড়ে। আমার সাথে সরকারি কর্মকর্তারা দেখা করেছে এ তথ্য ভুয়া।
খালেদা জিয়া বলেন, ১১, ১২, ১৩ সালে সুইস ব্যাংকে বহু কোটি টাকা জমা পড়েছে। এই টাকা জনগণের। এই সময় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিলো। তাই এইসব টাকা আওয়ামী লীগের লোকজনের। তিনি বলেন, আপনারা দুর্নীতির কথা বলছেন অথচ আওয়ামী লীগ করলে সব মাফ। আমরা দুর্নীতির বিপক্ষে।
মিগ২৯ ও ফ্রিগেট দুর্নীতি মামলার কথা উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, মিগ২৯ দ্বিগুণ দামে কেনা হয়েছিলো। সেই মামলায় তার সাজা হতো। আতাত করে তা তুলে নেয়া হয়েছে। বহু টাকা দিয়ে যে ফ্রিগেট কেনা হয়েছিলো সেটা কোন ফ্রিগেট ছিলো না। জাহাজ জোড়াতালি দিয়ে ফ্রিগেট বানানো হয়েছিলো।
র্যাব বাতিলের দাবি জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, র্যাব এখন অকার্যকর হয়ে পড়েছে। র্যাব খুনি বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।
খালেদা জিয়া বলেন, সুন্দরবনকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে। যেই তেলের ট্যাংকার ডুবেছে সেটা বালু বহনের কাজে ব্যবহার হতো। আওয়ামী লীগের ভক্ত নেতারা আত্মীয় হওয়ায় ট্যাঙ্কারের মালিককে ধরা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নব্বইয়ের ছাত্রনেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হবে। জনগণকে মুক্তি দিতে হবে। এজন্য ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। কে কী পেয়েছে বা পায়নি তা এখন দেখার বিষয় নয়। আগে সরকারকে বিদায় করতে হবে।
বিচারপতিদের উদ্দেশে বেগম জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগের কথা মতো চললে সেটা ঠিক হবে না। আপনারা জনগণের পক্ষে থাকুন। ভুলে যাবেন না আপনারাও মানুষ। একদিন মরতে হবে। আল্ল­াহর কাছে কী জবাব দেবেন? তিনি বলেন, আমরা শান্তি চাই, দেশের গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে চাই। আওয়ামী লীগ সংবিধানকে এমনভাবে পরিবর্তন করলো যেন নির্বাচন করলে অন্য কেউ ক্ষমতায় আসতে না পারে।
আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ্য করে বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেন, তারা জনসমাবেশ দেখলে, গঠনতান্ত্রিক রাজনীতি দেখলে, ন্যায্য দাবিতে আন্দোলন দেখলে ভয় পায়। খালেদা বলেন, ২০০৮ সালে নির্বাচন হলো। তাতেও কারচুপি ছিল। সেই নির্বাচন ছিল গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার নির্বাচন। আর তাই সে সময় ওই নির্বাচন আমরা মেনে নিয়েছিলাম। পরে দেশে যে উপ-নির্বাচনগুলো হলো আওয়ামী লীগের অধীনে তাতে যে ধরনের কারচুপি হয়েছে তাতে সবাই বুঝে যায় আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো নির্বাচন সঠিক ও সুষ্ঠু হয় না।

কনভেনশনে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আলম, সহ তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক হাবিব উন নবী খান সোহেল, সহ স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশাররফ হোসেন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুত্ফুর রহমান, ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন মনি, সাবেক ছাত্রনেতা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, কামরুজ্জামান রতন, গোলাম কাদির কামাল ,শামসুজ্জামান সামু, মোতাহার হোসেন, আশরাফ উদ্দিন খান, হেলেন জেরিন খান ,আসিফা আশরাফি পাপিয়া, শফিকুল ইসলাম মিলন, মীর সরাফত আলী সপু, মিজানুর রহমান চৌধুরী, গাজী রায়হান উদ্দীন টুকু, ইলিয়াস আহমেদ, রহমত ইলাহী, গোলাম কাদির কামাল, শামসুজ্জামান সামু, ইফতেখার হোসেন, বিলকিস জাহান শিরিন, ফরহাদ ইকবাল, সাবেরুল হক সাবুসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা সাবেক ছাত্রনেতারা।