বিশ্ব নেতাদের অভিনন্দন

৫০ বছরেরও বেশি সময় পর বৈরিতার অবসান ঘটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার কূটনৈতিক সম্পর্কের পথে আগানোর ঐতিহাসিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশ্ব নেতারা। যে চুক্তির আওতায় দু’দেশ বন্দিমিনিময় করে একে অপরের সম্পর্কে নতুন অধ্যায় শুরুর পট প্রস্তুত করেছে তার প্রশংসা করেছেন ল্যাটিন আমেরিকা এবং ইউরোপের দেশগুলোর নেতারা। তাদের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়েছেন পোপ ফ্রান্সিও।

সম্পর্কের সব জটিলতা জয় করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সত্ সাহসের জন্য ফ্রান্সিস যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার পাশাপাশি কিউবার প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোকেও ‘ঊষ্ণ অভিনন্দন’ জানান। ইউরোপীয় ইউনিয়নও এ পদক্ষেপকে এক ‘ঐতিহাসিক মোড় পরিবর্তন’ বলে বর্ণনা করেছে। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনায় ল্যাটিন আমেরিকা সম্মেলনে অংশ নেয়া নেতারা কিউবা-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অধ্যায়ের সূচনার খবরে হাততালি দিয়ে আনন্দমুখর হয়ে ওঠেন।
চিলির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেরাল্ডো মুনোজ এ উদ্যোগকে ‘আমেরিকানদের স্নায়ুযুদ্ধ অবসানের সূচনা বলে’ অভিহিত করেছেন। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বলেছেন, ‘এ এক নৈতিক জয়’, ‘এ জয় ফিদেল কাস্ত্রোর’।
সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বলেন, “ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কিউবার আদান-প্রদান বাড়লে দেশটির জনগণের জন্য বাস্তবমুখী ও দীর্ঘস্থায়ী নানা সংস্কারের পথ খুলে যাবে”। এ প্রচেষ্টায় আমেরিকার অন্যান্য দেশগুলোরও সামিল হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। ওদিকে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন হার্পার যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার উদ্যোগকে ‘বহুপ্রতিক্ষীত অগ্রযাত্রা’ বলে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে উদ্যোগটি বিশ্বব্যাপী এমন ভূয়সী প্রশংসা কুড়ালেও   সবাই এতে খুশী নয়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত ভিন্নমতাবলম্বী কিউবানরা এ উদ্যোগে নাখোশ হয়েছে। তাছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকানরাও এ পদক্ষেপের ঘোর বিরোধিতা করছে।
নতুন অধ্যায়:এর দীর্ঘদিনের শত্রু দেশ কিউবার সঙ্গে বুধবার কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এর মধ্য দিয়ে ৫০ বছর পর দু’দেশের সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হচ্ছে। বুধবার হোয়াইট হাউজ থেকে দেয়া ঘোষণায় ওবামা কিউবার ওপর থেকে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার আহ্বান জানান। ১৮ মাসের গোপন আলোচনার পর ওবামা এবং কাস্ত্রো একটি ফোনালাপে বন্দিবিনিময় করাসহ আরো নানা বিষয়ে একমত হন। এর মধ্যে রয়েছে, একে অপরের দেশে দূতাবাস খোলা, বাণিজ্যের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া এবং সম্পর্ক উন্নত করা। দু’নেতাই টেলিভিশনে দেয়া ভাষণে উল্লেখযোগ্য এ পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন। তবে কিউবার ওপর থেকে ওবামার অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়ার পদক্ষেপের আপত্তি জানায় রিপাবলিকানরা। ওবামা বলছেন, কিউবাকে একঘরে করে রাখার ‘অনমনীয় এবং সেকেলে’ নীতিটি স্পষ্টতই ব্যর্থ হয়েছে। এখন সময় এসেছে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে কিছু করার। ওবামা জানান, ওয়াশিংটন হাভানায় একটি দূতাবাস খোলার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে কিউবায় অর্থ পাঠানোর পরিমাণ উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বাড়বে।

তবে কিউবার ওপর থেকে ৫০ বছরের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা রাতারাতি উঠিয়ে নেয়া ওবামার জন্য সহজ হবে না। কারণ, এ নিষেধাজ্ঞা উঠাতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। ওবামা এ অনুমোদন লাভের চেষ্টা নেবেন বলে জানালেও একাজে তাকে যথেষ্ট বেগ পেতে হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। কিউবায় ১৯৫৯ সালের বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ফিদেল কাস্ত্রো ক্ষমতায় আসার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কিউবার শত্রুতা চলে আসছে।