ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে বেশি দৃঢ় ও বিস্তৃত। গতকাল বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে তার কার্যালয়ে বিদায়ী সাক্ষাত্ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। মজীনা বলেন, অনেক ইস্যুতে মতভিন্নতা থাকলেও বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বর্তমানে সর্বোচ্চ অংশীদারিত্বমূলক সম্পর্ক বিরাজ করছে।
দায়িত্ব পালনকালে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক গভীর, বিস্তৃত ও দৃঢ় হওয়ায় আমি খুবই গর্বিত। গত অক্টোবরে দুই দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত অংশীদারিত্ব সংলাপের কথা উল্লেখ করে বলেন, এটি ছিল খুবই গঠনমূলক আলোচনা।
মজীনা বলেন, একটি ভালো সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে কিছু বিষয়ে মতানৈক্য থাকা। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বন্ধু কানাডার সঙ্গেও কিছু বিষয়ে মতভিন্নতা রয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বিষয়ে মতভিন্নতা থাকতে পারে। সেই বিষয়গুলো আমরা চিহ্নিত করেছি। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা ইস্যুতেও আলোচনা হয়েছে জানিয়ে মজীনা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় কৌশলের অংশ হিসেবে এই ইস্যুতে সহায়তা করছে। এই সমস্যা নিরসনে তার দেশের সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। মিয়ানমারের এসব নাগরিকদের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামাও অবগত আছেন। এজন্যই তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গা ইস্যুর সমাধান মিয়ানমারের অভ্যন্তরেই রয়েছে।
রাষ্ট্রদূত মজীনা বাংলাদেশের ৬৪ জেলা ভ্রমণ নিয়েও তিনি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। এদেশের সকল জেলায় তার ভ্রমণগুলোতে সহযোগিতা করার জন্য তিনি বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়নে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে যে সহযোগিতা পেয়েছি তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। কৃষি, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, বৈশ্বিক জলবায়ু মোকাবেলাসহ বিভিন্ন খাতের উন্নয়নে সরকারের যে সহায়তা পেয়েছি তার জন্যও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মজীনা। তিনি বলেন, এখানে অবস্থানকালে প্রতি বছর চার সপ্তাহ আমি আমেরিকাতে কাটিয়েছি। এই সময়টা ব্যয় করেছি বাংলাদেশ সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষদের ধারণা দেয়ার জন্য। কারণ, তারা বাংলাদেশের ‘রানা প্লাজা’র কথা জানে, জানে এদেশের দরিদ্রতার কথা। কিন্তু সেটাই বাংলাদেশের আসল ও পুরো চিত্র নয়। তাই আমি বার বার এদেশের গল্প করেছি আমেরিকানদের কাছে, ভবিষ্যতেও আমি করবো।
দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে তিনি এদেশ থেকে যাচ্ছেন জানিয়ে মজীনা বলেন, বাংলাদেশ আমার হৃদয় ছুঁয়েছে। চলে যেতে মন চাইছে না। কিন্তু চলে যেতে হবে। কয়েকদিনের মধ্যেই আমি বাংলাদেশ ছেড়ে যাব। এটাই বাস্তবতা। তবে আমি কখনোই এই দেশকে ভুলতে পারব না। তিনি জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে তিনি কিউবার সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে যুক্তরাষ্ট্রের নেয়া গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন।
২০১১ সালের নভেম্বরে ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে যোগ দেন মজীনা। তার উত্তরসূরি হিসেবে নতুন রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া স্টিফেন্স ব্লুম বার্নিকাট জানুয়ারির শেষদিকে দায়িত্ব নিতে বাংলাদেশে আসবেন।