৫০ বছরের বৈরিতার পর কিউবার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্স্থাপনে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার চেষ্টাগুলো রুখে দেয়ার হুমকি দিয়েছে তার বিরোধীরা। মার্কিন কংগ্রেসে রিপাবলিকান পার্টির সদসস্যসহ আরো অনেকে ওবামার এ উদ্যোগে বাধা দেয়ার জন্য এক হয়েছেন। খবর বিবিসির।
ফ্লোরিডার সিনেটর মার্কো রুবিও মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের কাছে অঙ্গীকার করেছেন, কিউবায় কোনো মার্কিন রাষ্ট্রদূত মনোনয়নের চেষ্টা আটকে দেবেন তিনি। এ দিকে, কিউবার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য বরাদ্দ দেয়া হতে পারে এ রকম যেকোনো তহবিল কংগ্রেস সরিয়ে নেবে বলে ক্যাস্ট্রোবিরোধী অন্য মার্কিন আইনপ্রণেতারা প্রস্তাব দিয়েছেন। ১৯৬০-এর দশক থেকে কিউবার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক স্থবির হয়ে আছে। কিউবাকে একঘরে করে রাখার সেই নীতি ব্যর্থ হয়েছে এবং এখন ভিন্ন কিছু করার সময় এসেছে বলে ওবামা বুধবার তার ঘোষণায় নতুন নীতির যৌক্তিকতা তুলে ধরেছেন। কিন্তু তার নীতির ঘোর বিরোধিতা করছেন কংগ্রেসের রিপাবলিকানরা। বিশেষভাবে কিউবার ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়ার পদক্ষেপ মানতে রাজি নন তারা।
ওবামা কিউবা নিয়ে তার নতুন নীতির কথা জানানোর পরপরই ফ্লোরিডার রিপাকলিকান সিনেটর মার্কো রুবিও সিনেটের পররাষ্ট্রসম্পর্ক বিষয়ক কমিটিতে এর সমালোচনায় সরব হয়েছেন। আরেক রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেছেন, কিউবায় দূতাবাস খোলাসহ নতুন পরিবর্তিত নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল কমানোর চেষ্টায় কংগ্রেসে আইন পাসের চেষ্টা নেবেন তিনি। জানুয়ারিতে পররাষ্ট্র দপ্তরের তহবিল নির্ধারণী কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিতে চলেছেন গ্রাহাম। এক টুইটে তিনি লেখেন, ‘কিউবার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করাটা এই খারাপ সময়ে একটি খারাপ ভাবনা।’
রিপাবলিকানরা ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত ভিন্নমতাবলম্বী অনেক কিউবানও ওবামার উদ্যোগে নাখোশ। তবে ওবামার নতুন নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে কিউবান-আমেরিকান নাগরিক এমনকি ওয়াশিংটনের নেতৃস্থানীয় কিউবান-আমেরিকান কংগ্রেস সদস্যদের মধ্যেও মতবিরোধ চোখে পড়ার মতো। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কিউবার সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পক্ষে কিউবান-মার্কিনরা। কিন্তু এর বিপক্ষে রয়েছেন কিউবান-মার্কিন কংগ্রেস সদস্যরা।