এক হজ্ব এজেন্সির প্রতারণার শিকার হয়েছেন অন্তত ৪০ জন হাজী। প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে অসহায় ও নিরীহ হাজীরা হজ্বে গিয়ে মানবেতরভাবে জীবন যাপন করছেন। নিরীহ হাজীদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে ঐ এজেন্সির মালিক ও তার দালাল চক্র ভিআইপি টিকেট ও প্যাকেজের কথা বলে হাতিয়ে নিয়েছে অন্তত ৬০ লাখ টাকা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় এ ঘটনাটি ঘটেছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত হাজীরা গতকাল শুক্রবার জানিয়েছেন।
প্রতারণার শিকার হয়ে নিরীহ হাজীরা আদালতে মামলা দায়ের করেছেন এবং অনেকেই মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। মামলার পর এজেন্সির মালিকদের মধ্যে আলহাজ্ব খন্দকার সফিকুল ইসলামকে (৫৫) সিরাজগঞ্জ থেকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। অপর প্রতারকদের পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি বলে জানা গেছে। গত কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন ্ন এলাকায় অনুসন্ধান করে ক্ষতিগ্রস্ত হাজীদের নাম, ঠিকানা পাওয়া গেছে। প্রতারণার শিকার মির্জাপুর উপজেলা প্রকৌশল অফিসের ইঞ্জিনিয়ার মোঃ শামসুল আলম খান। তিনি অভিযোগ করেন, হজ্বে নেয়ার কথা বলে টাঙ্গাইলের গ্লোব ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস এজেন্সির মালিক আলহাজ্ব সফিকুল ইসলাম, তার পার্টনার মাসুদুর রহমান মাসুদ ও তাদের সহযোগিরা ভিআইপি টিকেটের প্যাকেজ দিবেন এই বলে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকায় হজ্বে পাঠানোর চুক্তি করেন। এভাবে মির্জাপুর উপজেলার কাওয়ালিপাড়া গ্রামের আবুল হোসেনের (৫৬) কাছ থেকে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা, শামসুল হক (৫৭)-এর কাছ থেকে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা, চানপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের (৬০) কাছ থেকে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা, গোড়াইল গ্রামের বাবুল হোসেনের (৫৬) কাছ থেকে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং নাগরপুর উপজেলার কোনড়া গ্রামের আব্দুর রহিম (৬০) কাছ থেকে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেন। তাদের মত টাঙ্গাইল সদর, দেলদুয়ার, নাগরপুর, বাসাইল, টাঙ্গাইল সদর, মধুপুর, ধনবাড়ি ও সিরাজগঞ্জ জেলার কয়েকটি উপজেলা থেকে ৭০-৮০ জন হাজীর কাছ থেকে একইভাবেই টাকা হাতিয়ে নেন বলে হাজীরা অভিযোগ করেন।
এদিকে যে চুক্তিতে তাদের নিকট থেকে টাকা নিয়েছিল সৌদি আরব গিয়ে হাজীদের তার কোন সুযোগ সুবিধা দেয়া হয়নি। তাদের সাথে অশুভ আচরণ, নিম্নমানের খাবার, নির্জন এলাকায় নোংরা হোটেলের এক রুমে ১২-২০ জন করে গাদাগাদি করে রাখা হয়। তাদের দেখাশোনার জন্য সাথে কোন মোয়াল্লিনও ছিল না। ফলে অনেক হাজী অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ঠিকমত হজ্ব পালনও করতে পারেননি বলে অভিযোগ করেন হাজীরা। গ্লোব ট্যুরস এন্ড ট্যাভেলস এজেন্সির মালিক সফিকুল ইসলাম ও কর্মকর্তা কর্মচারীরা হাজীদের টাকা নিয়ে সটকে পড়েন। ফলে অতি মানবেতরভাবে হাজীরা হজ্ব পালন করে কোন রকমে দেশে ফিরে আসেন বলে অভিযোগ করেন।
এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করা হলে পুলিশ সূত্র জানায়, গ্রেফতারকৃত সফিকুল ইসলাম একজন প্রতারক। তার পিতার নাম কাজিম উদ্দিন, গ্রাম-কাকনিআটা, থানা ধনবাড়ি জেলা-টাঙ্গাইল । কিন্ু্ত তিনি বিভিন্ন এলাকার ভুয়া ঠিকানা দিয়ে হাজীদের ভিআইপি ভিসায় হজ্বে পাঠাবেন বলে প্রতারণা করে প্রতি বছর লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। মামলার পর তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার সহযোগীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছেন।