বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের আন্দোলন মোকাবিলায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল আগামী জানুয়ারিতেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নামবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দলভুক্ত বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা। একইসাথে ২০১৯ সালের নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল জয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে বলে মন্তব্য করেছেন নেতারা। শুক্রবার রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে গণতন্ত্রী পার্টির জাতীয় সম্মেলনে ১৪ দলের নেতারা এ কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী এবং ১৪ দলের সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বিএনপি’র আন্দোলনের ফাঁকা আওয়াজে জনগণের মধ্যে হাস্যরস তৈরি হয়েছে। খালেদা জিয়ার আল্টিমেটাম কোনো কাজে আসবে না। আগামী বছরের শুরুতেই বিএনপি-জামায়াত যে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে তা মোকাবিলায় ১৪ দল আগামী জানুয়ারি থেকেই মাঠে নামবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে গেছে, আরো এগিয়ে যাবে। ২০১৯ সালের নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ জয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হ্যাটট্রিক করবেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অশুভ শক্তিকে মোকাবিলা ও গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে ১৪ দল সব সময় প্রস্তুত থাকবে। খালেদা জিয়া হুমকি দিয়েছেন। সবাই প্রস্তুত থাকবেন। বাংলার মানুষের জানমাল রক্ষায় জানুয়ারি মাস থেকে গ্রামগঞ্জের রাজপথে আমরা থাকব। খালেদা জিয়া কিংবা জামায়াত-বিএনপি’র কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রজ্ঞা ও নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আপনি ভয় দেখাবেন না। কাকে ভয় দেখান? ১৪ দলীয় জোটের সবাই মুক্তিযোদ্ধা। আমরা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছি। শেখ হাসিনার সঙ্গে যারা আছেন তারা সবাই মুক্তিযুদ্ধের সৈনিক। আর আপনার সঙ্গে আছে স্বাধীনতা বিরোধী, রাজাকার, যুদ্ধাপরাধী জামায়াত-শিবির। স্বৈরাচারের মত আচরণ করবেন না। হুমকি দেবেন না।
বিএনপি’র উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে তিন মাসের বেশি সময় ধরে জনগণ আপনাদের নৈরাজ্য-অত্যাচার দেখেছে। বিভীষিকার সেই দিন আর ফিরে আসতে দেয়া হবে না। ক্ষমতায় আসতে চাইলে, জনগণের আস্থা নিয়ে গণতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলন করুন। যুদ্ধাপরাধীদের প্রত্যাখ্যান করুন। আমরা স্বাগত জানাব।
তিনি বলেন, অশুভ শক্তির ছত্রছায়ায় দেশের বিরুদ্ধে কোনো আন্দোলন আওয়ামী লীগ ও ১৪ দল মেনে নেবে না। এক মুহূর্তের জন্যও অত্যাচার করতে রাজপথে নামতে দেয়া হবে না। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া আমরা সজাগ রয়েছি, থাকব। জামায়াত-বিএনপিকে রাজপথে নামতে দেয়া হবে না।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এবং ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া রাজনৈতিক ভাষায় কথা বলছেন না। জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন। খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েই যাচ্ছেন। তার বক্তব্য উস্কানি ও ষড়যন্ত্রমূলক। তিনি জাতিকে বিভ্রান্ত করার ব্যর্থ চেষ্টা করছেন। বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ করতে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের দলগুলোকে একসাথে কাজ করতে হবে।
তথ্যমন্ত্রী ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, রাজনৈতিক দলের ঐক্য রাজনৈতিক কারণে হয়, ১৪ দলের ঐক্য আদর্শিক এবং নীতিগত ঐক্যও। ঐক্যের মাধ্যমে নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছি। রাজাকার ও বিএনপিকে পরাজিত করেছি। দেশকে পশ্চাদপদতা থেকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়েছি। আরো এগিয়ে নিতে কাজ করে যেতে হবে। আমাদের ঐক্যে ফাটল ধরানোর চেষ্টা নসাত্ করে দিয়ে অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক জঙ্গিবাদমুক্ত রাষ্ট্র গঠন করতে হবে।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া মিথ্যাচার, ইতিহাস বিকৃতি ও জঙ্গিবাদীদের লেলিয়ে দেয়ার রাজনীতি শুরু করেছেন। তিনি সিংহাসন দখল করে জঙ্গিবাদ ও রাজাকারদের দেশ ইজারা দিয়ে দেবেন। কিন্তু আমরা তার উদ্দেশ্য সফল হতে দেব না।
সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া বলেন, আমাদের আর পেছনে ফিরে তাকানোর সুযোগ নেই। বাংলাদেশ এখন উন্নত দেশের স্বপ্ন দেখে। এ স্বপ্ন বাস্তবায়নে জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা মোকাবিলা করতে ১৪ দলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।
গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতিমন্ডলীর সদস্য আরশ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ শান্তি পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাফফর হোসেন পল্টু, ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের রেজাউর রশীদ খান।