বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম ও একশন এইড বাংলাদেশ

আদিবাসীদের সমমর্যাদা দিতে ১০ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ দাবি

 
ইত্তেফাক রিপোর্ট
আদিবাসীদের সমমর্যাদা দিয়ে তাদের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ রাখার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম ও একশন এইড বাংলাদেশ। তারা বলেছেন, ‘দেশে এখন বিশাল আকারের বাজেট প্রণয়ন হচ্ছে। অথচ সেখানে আদিবাসীদের জন্য বরাদ্দ দেখলে মনে হয়, তারা বুঝি এ দেশের পূর্ণ নাগরিক নয়। কৃষকের বাজেট গণমাধ্যমের প্রচারণার জন্য জনপ্রিয়তা পেলেও আদিবাসীদের বাজেট বরাদ্দ এখনো অবহেলিত।’         শনিবার সকালে ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটি মিলনায়তনে ‘জাতীয় বাজেট এবং সরকারি সেবাসমূহে আদিবাসীদের জন্য ন্যায্য বরাদ্দ চাই’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এ দাবি জানান।
বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম ও একশন এইড বাংলাদেশ এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে। বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সৌরভ সিকদার।
সৌরভ সিকদার বলেন, ‘আমাদের জাতীয় বাজেট দেখলে মনে হয় এ দেশের আদিবাসীরা পূর্ণ নাগরিক ও মানবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। সংবিধানে তাদের স্বীকৃতি নেই, বাজেটে তারা অবহেলিত, নাগরিক হিসেবে তারা শোষিত-দলিত।’
তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শোষণমুক্ত সম-অধিকারের বাংলাদেশ গড়তে হলে এ দেশের নাগরিক হিসেবে আদিবাসীদের পূর্ণ অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা রাস্ট্রের দায়িত্ব। বাজেটের পর্যাপ্ত বরাদ্দের পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং তা বাস্তবায়নে ও আন্তরিক হতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মেসবাহ কামাল বলেন, ‘আসলে বাজেট বরাদ্দে জবাবদিহি থাকা দরকার। ডিসেম্বরে বাজেট পূনর্বিন্যাসের একটা সুযোগ থাকে সেখানে থোক বরাদ্দ ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার সুপারিশ জানান তিনি। মেসবাহ কামাল বলেন, ‘আদিবাসীদের জন্য জাতীয় বাজেটে আনুমানিক ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা উচিত, অথচ তা হয় মাত্র ১৬ কোটি টাকা।
বৈঠকে একশন এইডের পরিচালক আজগর আলী সাবরীর সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এম আকাশ, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য অনিল মারান্ডি, আদিবাসী কমিশনের সদস্য নিরূপা দেয়ান, আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, বিনতাময় দামাই, বাধন আড়েং প্রমুখ।