একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কাজের স্বার্থে ১৯৭০ সালের জাতীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনের তথ্য চেয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) তদন্ত সংস্থা। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে এক পত্রের মাধ্যমে তথ্যগুলো চেয়েছে সংস্থাটি। এতে বিপাকে পড়েছে কমিশন। কেননা, ৭০ সালের কোনো নির্বাচনের তথ্যই নেই ইসির কাছে। ওই বছর ৭ ডিসেম্বর জাতীয় পরিষদ এবং ১৭ ডিসেম্বর প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আর নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৭২ সালে।
ইসি সচিবালয়ের একজন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, ইসির কাছে কোনো তথ্য নেই। ট্রাইব্যুনাল তদন্ত সংস্থার চাহিদার প্রেক্ষিতে পুরোনো সকল নথি খোঁজা হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ সংসদ সচিবালয়ে ওই নির্বাচন দু’টোর তথ্য থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন। সিইসি এক সময় সংসদ সচিব ছিলেন।
সিইসির নির্দেশে অবশেষে সংসদ সচিবালয়ে তথ্যগুলো খোঁজার জন্য দু’জন সহকারী সচিব পর্যায়ের দুই কর্মকর্তাকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করেছে ইসি। এরা হলেন- সিনিয়র সহকারী সচিব মো. আতিয়ার রহমান ও মো. শাহ আলম। ওই কমিটিকে আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে নির্বাচনী নথি খোঁজার পর প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। কমিটির গঠন ও নথি খোঁজার বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিবকেও একটি পত্র দিয়েছে ইসি।
তদন্ত সংস্থা থেকে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো ব্যক্তির তথ্য চাওয়া হয়নি। ইসির পক্ষ থেকে তদন্ত সংস্থায় যোগাযোগ করা হলে সকলের যাবতীয় তথ্য সরবরাহ করতে বলা হয়েছে।
ইসির আরেকজন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে জানান, ওই নির্বাচনের পরেই দেশের পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। যে কারণে তথ্যগুলো ভালোভাবে সংরক্ষিত করে রাখা হয়নি। অথবা, সংরক্ষণ করা হয়েছিলো কিন্তু যুদ্ধের সময় সব নষ্ট হয়েছে। সে সময় মালিবাগে যে ভবনে নির্বাচন কমিশনের অফিস ছিলো, তা পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্তনাধীন রয়েছে নতুন চার শতাধিক মামলা। এসব মামলায় ৭০ সালের নির্বাচনকে রেফারেন্স হিসেবে নেয়া হতে পারে।