‘গণতন্ত্র, নির্বাচনী ব্যবস্থা ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা হয়েছে’

 
 
বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ দেশের গণতন্ত্র, নির্বাচনী ব্যবস্থা ও সকল স্বাধীন প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে। ৫ জানুয়ারির ভোটার বিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে এক দলীয় শাসন ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করেছে। এ নির্বাচন বাংলাদেশের জনগণ এবং বর্হিবিশ্বের কোন দেশ গ্রহণ করেনি।
সোমবার দুপুরে স্থানীয় জাতীয় বীর আব্দুল কুদ্দুছ মাখন পৌর মুক্ত মঞ্চে আয়োজিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপি’র ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 
তিনি আরো বলেন, বিচার ব্যবস্থার উপর হস্তক্ষেপ করার জন্য তাদের অভিশংসন আইন একটি অকার্যকর সংসদের হাতে নিয়ে গেছে। আওয়মী লীগের সমালোচনা করে বলেন, ৭৫ সালে গণতন্ত্রকে হত্যা করে এক দলীয় শাসন ব্যবস্থা বাকশাল কায়েমের মধ্য দিয়ে জনগণের সকল অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছিল। ৭৫’ সালের ৭ নভেম্বর জিয়াউর রহমান সিপাহী জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশে পুনরায় গনতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু করেছিল দেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে মুক্ত করে একটি সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করতে। জিয়াউর রহমান চেয়েছিলেন এমন এক দর্শন হবে যা সমগ্র দেশবাসী এক জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, গত ৩ বছরে বর্তমান সরকার ৩০ হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে। তাদের বিরুদ্ধে কোন কথা বললে এখন রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা হয়। প্রতিদিন দেশে ২০/৩০টি খুনের ঘটনা ঘটছে। অপহরণের ঘটনাও ঘটে চলেছে। বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান তথ্য ভিত্তিক কথা বললেও এর জবাব না দিয়ে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অরাজনৈতিক ভাষায় কথা বলছে। ফেরাউন, নমরুদ, মোসেলিনী ও পাকিস্তানের আইয়ুব খানের পরিণতি আমরা দেখেছি। আওয়ামী লীগও এ পরিণতির জন্য এখন অপেক্ষা করছে। বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে মামলার প্রসঙ্গে বলেন, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের মাধ্যমে একটি এতিম খানা প্রতিষ্ঠা এবং বাকী টাকা ব্যাংকে গচ্ছিত রাখা হয়েছে। অথচ তাকে রাজনৈতিক হয়রানির জন্য সরকার তার বিরুদ্ধে এসকল মামলা পরিচালনা করছে। 
আগামী দিনের সরকার বিরোধী আন্দোলনে বেগম জিয়ার নেতৃত্বে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানান ফখরুল। জেলা বিএনপি’র আহবায়ক হাফিজুর রহমান মোল্লা কচির সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব জহিরুল হক খোকনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট হারুন আল রশিদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঞা, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সচিব মুশফিকুর রহমান, কেন্দ্রীয় বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব শাহজাহান খান, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক রাষ্ট্রদূত গোলাম আকবর খন্দকার, কেন্দ্রীয় বিএনপি’র প্রবাসী কল্যান সম্পাদক সৈয়দ একে একরামুজ্জামান, সাবেক এমপি কাজী মোঃ আনোয়ার হোসেন, সাবেক এমপি ডিআইজি এমএ খালেক, ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, এডভোটেক শফিকুল ইসলাম, জিল্লুর রহমান, সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।