ছিন্ন মাথা নিয়ে চাঁদা দাবি: ৩ আসামির মৃত্যুদণ্ড

 
 
 
 
ইলেকট্রিসিয়ানকে হত্যার পর তার ছিন্ন মাথা নিয়ে চাঁদা দাবির মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছে আদালত। এ ছাড়া, তাদের প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. রেজাউল ইসলাম মঙ্গলবার এ রায় ঘোষণা করেন। ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্তরা হলেন, বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার উত্তমপুর গ্রামের রুবেল (২৫), ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার কোদালিয়া উত্তরপাড়ার রোমান (২৪) এবং বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দেউড়ি গ্রামের রনি বিশ্বাস (২৪)।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০১০ সালের ৬ জুন রাতে পুরান ঢাকার হোটেল শাহ কামালের নিচতলায়  রুবেলকে খুন করে দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে আসামিরা। পরে তার কাটা মাথা নিয়ে আসামি রোমান পাশের হোটেল মীমে গিয়ে ম্যানেজারের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে বলেন, টাকা না দিলে তাকে হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হবে। রোমানকে টাকা দেয়ার কথা বলে বসিয়ে রেখে পুলিশে খবর দেন হোটেলের ম্যানেজার। পরে পুলিশ এসে কাটা মাথাসহ তাকে গ্রেফতার করে। পরে অন্য দুই আসামিকেও পুলিশ গ্রেফতার করে এবং তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হোটেল শাহ কামালের নিচতলার একটি ঘরে রুবেলের দেহ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মরণ মিয়া সূত্রাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। হত্যার দায় স্বীকার করে আসামিরা আদালতে জবানবন্দিও দেয়।
সূত্রাপুর থানার এস আই আশিকুর রহমান ২০১০ সালের ২৯ ডিসেম্বর মাসে তিন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। ২০১১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে। রাষ্ট্রপক্ষে ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১২ জনের বক্তব্য শুনে আদালত মঙ্গলবার এ রায় ঘোষণা করে।
রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী শওকত আলম এবং আসামিপক্ষে মোরশেদা বেগম লাকী মামলা পরিচালনা করেন।
এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে বলে জানান আসামির আইনজীবী।