জুনের মধ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামী জুনের মধ্যেই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার লালবাগ থেকে কেরানীগঞ্জে স্থানান্তর করা হবে। বর্তমান কারাগারের ৯ একর জায়গা জনগণের জন্য একটি পার্ক ও দুটি যাদুঘর নির্মাণে ব্যবহার করা হবে। প্রধানমন্ত্রী গতকাল মঙ্গলবার সকালে গাজীপুরে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার প্রাঙ্গণে জাতীয় কারা সপ্তাহ-২০১৪ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, দীর্ঘ ৭ বছর পর কারা সপ্তাহ পালিত হচ্ছে। কারা সপ্তাহ পালনের মধ্যদিয়ে আপনাদের কর্মস্পৃহা আরো বৃদ্ধি পাবে এবং বন্দিদের শৃংখলভাবে নিরাপদে আটক ও তাদের প্রতি মানবিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে। ‘পাপকে ঘৃণা কর, পাপীকে নয়’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আমরা কারা প্রশাসন পরিচালনা করছি। তাই আমাদের সরকার সব সময় কারাগারের পরিবেশ উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। ১৯৯৬ সালে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে আমরা কারা বিভাগের সদর দপ্তরসহ ৩৬টি কারাগার নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করে। যার সুফল বর্তমানে কারাবন্দিসহ পুরো প্রশাসন পাচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে কারা বিভাগে বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। এগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করে কারা বিভাগকে আরো যুগোপযোগী করার জন্য সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কারা প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি, বন্দিরা সাজাভোগ শেষে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে যাতে সমাজে পুনর্বাসিত হয়ে স্বাভাবিক জীবন-যাপন করার সুযোগ পায় সে জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি আমরা গ্রহণ করেছি। এ ছাড়া দেশ ও জাতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জঙ্গি এবং শীর্ষ সন্ত্রাসীরা যাতে কারাগারের ভেতর থেকে জঙ্গি তত্পরতা চালাতে না পারে সে লক্ষ্যে কারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করা হবে।
বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ২০০৯ সালে দায়িত্ব নেয়ার পর আমরা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় চার নেতার স্মৃতির উদ্দেশ্যে ‘কারা স্মৃতি যাদুঘর’ স্থাপন করি। এটি জাতীয় যাদুঘরের শাখা যাদুঘর হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরের পর এ যাদুঘর দুটি সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেয়া হবে। যাতে জনগণ জাতির পিতা ও জাতীয় চার নেতার কারাবাসকালীন স্মৃতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা পেতে পারেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একশ’ বছরের পুরনো, জরাজীর্ণ খুলনা জেলা কারাগারকে অন্যত্র সরিয়ে নিতে নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারকেও আরো বড় পরিসরে অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু হয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যে বাহ্মণবাড়িয়া, ঝিনাইদহ, চাঁদপুর, মেহেরপুর, গোপালগঞ্জ, নাটোর, নীলফামারী এবং নেত্রকোনা জেলায় নতুন কারাগার চালু হয়েছে। এ ছাড়া দিনাজপুর, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, ফেনী, মাদারীপুর ও পিরোজপুর জেলায় নতুন কারাগার নির্মাণের কাজ চলছে। চট্টগ্রাম কারাগারের আধুনিকায়নের কাজ চলছে। তিনি বলেন, কারা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কল্যাণে প্রায় দুই একর জায়গায় পার্কিং ব্যবস্থাসহ বহুতল কনভেনশন সেন্টার স্থাপন করার পরিকল্পনা আছে। যেখানে সিনেপ্লেক্স, সুইমিংপুল, জিমনেশিয়ামসহ অন্যান্য বিনোদনের ব্যবস্থা থাকবে। এখান থেকে অর্জিত আয় কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কল্যাণে ব্যয় করা হবে। বাকি অংশে কারা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট নির্মাণ করা হবে।

 অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, জাহিদ আহসান রাসেল এমপি, স্বরাষ্ট্র সচিব মোজাম্মেল হোসেন খান, আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক এমপি আখতারউজ্জামান, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ হারুন অর রশীদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খানসহ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।