সিরিয়া যুদ্ধের ফলে ধ্বংসের মুখে শতাধিক প্রাচীন স্থাপনা

 
 
 
সিরিয়ায় চলমান সংঘাতের ধারাবাহিকতায় এক শরও বেশি প্রাচীন স্থাপনা ধ্বংস, ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা লুটপাট হয়েছে বলে জাতিসংঘ জানিয়েছে। নতুন ‘আশঙ্কাজনক’ স্যাটেলাইট প্রমাণ অনুসারে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। খবর আল-জাজিরার।
প্রতিবেদনটিতে জানানো হয়েছে, ২৯০টি স্থাপনা যুদ্ধের দ্বারা সরাসরি আক্রান্ত যার মধ্যে ২৪টি ধ্বংস হয়ে গেছে, ১০৪টি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত, ৮৫টি মাঝারি রকম ক্ষতিগ্রস্ত এবং ৭৭টি সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত। আক্রান্ত এই স্থাপনগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রাগৈতিহাসিক বসতি ও প্রাচীন বাজার থেকে শুরু করে বিশ্বখ্যাত মসজিদ ও ক্রুসেডারদের প্রাসাদ পর্যন্ত অসংখ্য অমূল্য সম্পদ। জেনেভাভিত্তিক জাতিসংঘের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ইউএনওএসওটির প্রস্তুতকৃত ওই প্রতিবেদনটি ১৮টি এলাকায় কেন্দ্রিভূত ছিল। এর মধ্যে ছয়টি এলাকা ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত। এগুলো হলো— পুরনো আলেপ্পো নগরী, বসরা, দামেস্ক, উত্তর সিরিয়ার মৃত নগরীগুলো, ক্রাস ডেস চ্যাভেলিয়ার্স প্রাসাদ এবং পালমিরার গিক-রোমান মরূদ্যান।
বিদ্রোহীদের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের অনুগত বাহিনীর যুদ্ধের ফলে বিশেষ করে সাত হাজার বছর পূর্বের বসতি সিরিয়ার প্রাক্তন বাণিজ্যকেন্দ্র আলেপ্পো কঠিন আঘাত পেয়েছে। বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ আচ্ছাদিত ঐতিহাসিক বাজার আল-মদিনা সৌক গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া, দ্বাদশ শতাব্দীর উম্মায়াদ মসজিদটিরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইউএনওএসওটির পরিচালক আইনার বিজোরগো বলেছেন, ‘মানব সভ্যতা শত শত এবং হাজার হাজার বছরের ঐতিহ্য হারাচ্ছে।’