জাতিসংঘ টিম ৩১ ডিসেম্বর রিপোর্ট হস্তান্তর করবে

সুন্দরবনের শেলা নদীতে তেলবোঝাই ট্যাঙ্কার ডুবির ঘটনার ক্ষতি ও জীববৈচিত্র্যের ওপর প্রভাব নিরূপণে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করছে জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক দল। আগামী রবিবার পর্যন্ত তারা এ কাজ করবেন। ৩১ ডিসেম্বর সরকারের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হবে। গণমাধ্যমকেও জানানো হবে।

গতকাল বুধবার সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক এলাকায় লঞ্চে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। বাগেরহাট প্রতিনিধি ও মংলা সংবাদদাতা জানান, পর্যবেক্ষক দল গতকাল সকালে ৪টি স্পিডবোট ও দুইটি ছোট লঞ্চযোগে চাঁদপাই বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যসহ শেলা নদী থেকে হরিণটানা খাল পর্যন্ত দীর্ঘ এলাকা পর্যবেক্ষণ শুরু করে। ৬টি দলে বিভক্ত হয়ে তারা বিভিন্ন যন্ত্র দিয়ে শেলা নদীসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পানি, নদীর তলদেশেসহ মাটি, ফার্নেস অয়েল লেগে থাকা বিভিন্ন জাতের ঘাস, গাছপালা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও জীববৈচিত্র্যের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন।
সাংবাদিকদের পর্যবেক্ষক দলের প্রধান এমেলিয়া ওয়ালস্ট্রম বলেন, শেলা নদীতে তেল বিপর্যয়ে ফার্নেস তেলের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া বিষয়ে তারা অনেকগুলো লক্ষ্য সামনে রেখেছেন। এর মধ্যে রয়েছে সুন্দরবনের কি ধরনের ক্ষতি হতে পারে। তার স্থায়িত্ব কতো, সুন্দরবনের বিভিন্ন বন্যপ্রাণীসহ যে প্রাণীকুল রয়েছে তার কোন ক্ষতি হতে পারে কিনা, সেটা আসলে কি ধরনের ক্ষতি হতে পারে। এখানে নদ-নদীগুলোতে যে জলজ প্রাণী রয়েছে তার কোন ক্ষতি হয়েছে কিনা। হয়ে থাকলে সেটা কি ধরনের ক্ষতি হতে পারে। সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল মত্স্য ও বনজীবী এবং বন সন্নিহিত লোকালয়ের মানুষের জীবন-জীবিকার উপর কি ধরনের প্রভাব পড়তে পারে সেসব বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিনিধি দলটি ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত  কাজ করবে। ৩১ ডিসেম্বর সরকারের কাছে প্রতিবেদন পেশ করবে।
নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব শফিক আলম মেহেদী এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজিবুর বুধবার দুপুরে বাগেরহাটের মংলায় গিয়েছেন।

তিনি আজ বৃহস্পতিবার মংলা-কুমারখালী-ঘষিয়াখালী নৌ-পথে বিআইডাব্লিউটিএ-এর চলমান খননকাজ পরিদর্শন করবেন।