ঢাকায় প্রবেশে ট্যাক্স!

ঢাকা শহরে প্রবেশে কর বা টোল লাগবে! অর্থাত্ ঢাকা শহরে আগতদের দিতে হবে আগমন কর। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত বর্ধিত বেতন-ভাতার অর্থ যোগাতে পে অ্যান্ড সার্ভিস কমিশন এমন সুপারিশ করেছে। এছাড়াও বিলাসবহুল পণ্য, বিভিন্ন পানীয় দ্রব্য, তামাকজাত পণ্য, ১০ বছরের বেশি পুরনো গাড়ির কর বাড়ানোসহ মোট ১৩টি সুপারিশ করেছে কমিশন। এদিকে, ঢাকা প্রবেশে কর আদায়ের সুপারিশটি অবাস্তব বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে। তারা বলছেন, প্রতিদিনই লক্ষ লক্ষ মানুষ ঢাকায় আসা-যাওয়া করছে। এধরনের কর আদায় প্রায় অসম্ভব বলে মনে করছেন তারা।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন এ প্রসঙ্গে ইত্তেফাককে বলেন, কর বাড়িয়ে বাড়তি অর্থ যোগান করার বিষয়গুলো সুচিন্তিত নয়। বিশেষ করে ঢাকা প্রবেশের জন্য বাড়তি টোল বা কর আদায় করার সুপারিশ অবাস্তব।
গত রবিবার অর্থমন্ত্রীর কাছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত পে অ্যান্ড সার্ভিস কমিশন এই সুপারিশ প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন।  পে কমিশনের হিসাব অনুযায়ী সাড়ে ১২ লাখ ৬৬ হাজার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, ৪ লাখ ৫৩ হাজার পেনশনভোগী এবং ৩ লাখ ৪৪ হাজার এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষকের বেতন বৃদ্ধি করতে হবে। আর এ জন্য আগামী (২০১৫-১৬) অর্থবছরে সরকারের খরচ বাড়বে ৬৩ দশমিক ৭ শতাংশ বা টাকার অংকে ২২ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১৭ হাজার ৪৬৪ কোটি টাকা সরকারি কর্মচারীদের জন্য, ৩ হাজার ৭৯০ কোটি টাকা পেনশন এবং ১ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা প্রয়োজন এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য।
বাড়তি অর্থের যোগানের জন্য ভূমি উন্নয়ন কর, জুডিশিয়াল ফি, প্রমোদ কর ইত্যাদি যুক্তিসঙ্গতভাবে বৃদ্ধি করার প্রস্তাব করেছে কমিশন। বেতনাদি পরিশোধের সময় যে রেভিনিউ স্ট্যাম্প ব্যবহার করা হয় তার মূল্য বৃদ্ধিরও সুপারিশ করা হয়েছে। ১০ হাজার টাকার বেশি লেনদেন যেমন: বীমা প্রিমিয়াম, বাড়ি ভাড়া, বিমানের টিকিট মূল্য, বাণিজ্যিক লেনদেন অ্যাকাউন্ট পেয়ি চেকের মাধ্যমে পরিশোধের সুপারিশ করা হয়েছে।
অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন আরো বলেন,  ভূমি রেজিস্ট্রেশন ফি, স্ট্যাম্প ফিসহ অন্যান্য ফি বৃদ্ধির সুপারিশও যৌক্তিক নয়। তিনি মনে করেন, বাড়তি অর্থের সংস্থানের জন্য সরকার অপ্রয়োজনীয় ও অপচয়মূলক ব্যয় হ্রাসের চিন্তা করতে পারে।
তাছাড়া বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ব্যয় আরো দক্ষতার সাথে বাস্তবায়ন করলে অনেক অর্থের সাশ্রয় হবে। তিনি মনে করেন, পে কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন একসাথে না করে ধাপে ধাপে করলে বাজেটে এ চাপ অনেক কমে আসবে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্য বর্তমানে অনেক কম। আগামী বছরও এ দাম কম থাকবে। এর ফলে সারেও ভর্তুকি কমে আসবে। এখন সরকারকে জ্বালানি তেল ও সারের জন্য বড় আকারে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে না। তাই এ খাত থেকেও সরকারের অর্থ সাশ্রয় হবে।

কমিশন সুপারিশ করেছে, সরকারের উন্নয়নমূলক ও অত্যাবশ্যকীয় ব্যয়গুলো বহাল রেখে আগামী দুই থেকে তিন বছরের জন্য অনুত্পাদনশীল খাতের কম অগ্রাধিকারসম্পন্ন ব্যয় কঠোরভাবে সীমিত করা যেতে পারে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সব ধরনের কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন এবং তা দ্রুততার সঙ্গে করতে হবে। কমিশনের প্রতিবেদনে আরো প্রস্তাব করা হয়েছে, রিয়েল এস্টেটে স্বচ্ছতার মাধ্যমে লেনদেনের ব্যবস্থা নিলে রাজস্ব আয় বাড়বে। কমিশন মনে করছে, সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করলে বেতন-ভাতা দিতে সরকারে সমস্যা হবে না। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পে কমিশনের সুপারিশ পাওয়ার পর এটি বাস্তবায়ন কমিটি গঠন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়াও সরকারের আয়-ব্যয়ের হিসাবও নিরীক্ষা করা হচ্ছে।