স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, নির্বাচন ছাড়া সরকার পরিবর্তন হবে না। বেগম জিয়া হুমকি দিয়েছেন ৫ জানুয়ারি দেখিয়ে দেবেন। এই খুনিদের মাঠে নামতে দেয়া হবে না। ২০১৯ সালের একদিন আগে নির্বাচন হবে না।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে মাগুরায় নোমানী ময়দানে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও সাবেক এমপি আছাদুজ্জামানের ২১তম মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন হয়েছে বলেই খালেদা জিয়া এখন কথা বলতে পারছেন। তিনি সংলাপের কথা বলছেন। তার সাথে কিসের সংলাপ, যার পুত্র বঙ্গবন্ধুকে অসম্মান করে। তার সাথে সংলাপ হবে না। তারা জামায়াতের সাথে আঁতাত করে যুদ্ধাপরাধী-খুনিদের বাঁচানোর চেষ্টা করছেন।
তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খালেদা জিয়াকে সংলাপে বসার আহ্বান জানান। কিন্তু তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। বিএনপিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ অনেক মন্ত্রণালয় দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি কথা শোনেননি। সাধারণ মানুষ, পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের হত্যা করেছেন। এখন সরকার জঙ্গিবাদ দমন করেছে। মানুষ শান্তিতে আছে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের খুন-ক্ষয়ক্ষতি মিটিয়ে দিয়ে বিএনপিকে সংলাপে বসতে হবে।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তানজেল হোসেন খানের সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক এমপি, এসএম কামাল হোসেন, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ডা: সিরাজুল আকবর এমপি, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার এমপি, মরহুম আছাদুজ্জামানের মেয়ে কামরুল লায়লা জলি এমপি, প্রধান মন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব সাইফুজ্জামান শিখর।
এর আগে মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম মাগুরা সদর হাসপাতালে ২৫০ শয্যা হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। স্বাস্থ্য বিভাগ আয়োজিত মাগুরার সিভিল সার্জন ডা:সুনীল চন্দ্র রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক সৈয়দ শরিফুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, দেশে ১৩ হাজার হেলথ কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করা হয়েছে। বিএনপি রাজনীতি করে এগুলো বন্ধ করে দিয়েছিল। ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার সরকার আবার চালু করেছে। ২৯ প্রকার ওষুধ বিনামূল্যে দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ পৃথিবীর কাছে স্বাস্থ্য সেবায় মডেল হয়েছে। তিনি মাগুরা শিশু ও চক্ষু হাসপাতালের জন্য এক কোটি টাকা অনুদান, সদর হাসপাতালের জন্য একটি এ্যাম্বুলেন্স দেয়ার ঘোষণা দেন।
উল্লেখ্য, ২০ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে মগুরা সদর হাসপাতালে ৬ তলাবিশিষ্ট ২৫০ শয্যার ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।