ছাত্রলীগের হুমকির পরও শনিবার গাজীপুরে ২০ দলীয় জোটের জনসভা হবে এবং তাতে বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়া অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, কাল জনসভা হবেই। অবশ্যই আমরা কাল গাজীপুর যাবে। এখন বিরোধী দলের জনসভা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারেরই।’’
মির্জা ফখরুল বলেন, “গাজীপুরে জনসভার অনুমতির সব প্রক্রিয়া আমরা পালন করেছি। স্থানীয় প্রশাসনকে তা জানানো হয়েছে। সেখানকার ডিসি-এসপিও আমাদের বলেছেন কোনো অসুবিধা হবে না। কিন্তু দুই-তিন দিন আগে ছাত্রলীগ জনসভা করতে দেবে না বলে ঘোষণা দেয়। পুলিশের প্রত্যক্ষ মদদে তারা মঞ্চ দখল করে নিয়েছে। এটা নৈরাজ্য।’’
সরকার গণতন্ত্রের সব পথ রুদ্ধ করে দিচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, "শান্তিপূর্ণ মিছিল, জনসভা-সমাবেশ করার গণতান্ত্রিক অধিকার যদি এভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়, তার পরিণতি হবে ভয়াবহ।"
মঙ্গলবার রাতে কলেজ মাঠে এলাকায় বিএনপির লাগানো ব্যানার-ফেস্টুন ভাংচুর করে তাতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। এজন্য ছাত্রলীগ ও যুবলীগকে দায়ী করেছে বিএনপি।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কলেজ মাঠ ও এর আশপাশের এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এরইমধ্যে সেখানে ছাত্রলীগ কর্মীরা মিছিল চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বিএনপির কাউকে সেখানে দেখা যায়নি।
বকশীবাজারে বুধবারের সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে ‘মিথ্যাচার’ আখ্যায়িত করেন ফখরুল।
তিনি বলেন, ‘‘কীভাবে ছাত্রলীগের গুণ্ডারা নিরস্ত্র মানুষের ওপর হামলা চালিয়েছে গোটা দেশবাসী মিডিয়ার মাধ্যমে দেখেছেন। বন্দুক-পিস্তল ও ধারাল অস্ত্র নিয়ে তারা ২০০৭ সালের লগি-বৈঠার কায়দায় আমাদের নেতা-কর্মীর ওপর আক্রমণ করেছে।’’
বিএনপির স্থায়ী কমিটি সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের গ্রেফতারে ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে তার মুক্তি দাবি করেন ফখরুল।