‘নিত্য বাজুক বজ্রবীণা, মানুষ জাগুক জয়ে’ স্লোগান নিয়ে শুক্রবার শুরু হয়েছে উদীচীর ১৯তম জাতীয় সম্মেলন। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে দুই দিনে এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন ২০০৫ সালে নেত্রকোনায় উদীচী কার্যালয়ে মৌলবাদী প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর নৃশংস বোমা হামলায় নিহত উদীচীর নেতা খাজা হায়দার হোসেন ও সুদীপ্তা পাল শেলীর পরিবারের সদস্য এবং ওই ঘটনায় আহত সহযোদ্ধাদের পক্ষে তুষার কান্তি রায়। এ সময় সুদীপ্তা পাল শেলীর মা অরুণা রানী পাল, খাজা হায়দার হোসেনের স্ত্রী শাহনাজ বেগম এবং বোমা হামলায় আহত মাসুদুর রহমান খান, সুসহ বণিক মলু ও সুব্রত রায় টিটু উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধন ঘোষণার সাথে সাথেই একদল ঢাকির ঢাক বাদন ও তার সাথে নৃত্যের তালে তালে আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠেন শহীদ মিনার চত্বরে উপস্থিত বিভিন্ন জেলা ও শাখা থেকে আগত উদীচীর প্রায় দুই হাজার শিল্পী-কর্মী। এর পরই ছিল উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের পরিবেশনায় গীতি আলেখ্য ‘মানুষ জাগুক জয়ে’। এটি রচনা ও নির্দেশনা দেন বেলায়েত হোসেন। এর আগে শহীদ বেদিতে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান উদীচীর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। উত্তোলন করা হয় জাতীয় পতাকা ও সংগঠনের পতাকা। উদ্বোধনী পর্ব শেষে শোভাযাত্রা হয়। পরে শহীদ মিনার থেকে বেরিয়ে শোভাযাত্রা। সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগারের প্রাঙ্গণে এসে শোভাযাত্রা শেষ হয়। শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তনে ছিল উদ্বোধনী আলোচনা সভা।
কেন্দ্রীয় সভাপতি কামাল লোহানীর সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, সাহিত্যিক জাকির তালুকদার, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার, ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লাকী আক্তার।
এর আগে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রবীর সরদার। দেশের সাংস্কৃতিক সংগ্রামের স্বার্থেই উদীচীর টিকে থাকা এবং এর উত্তরোত্তর আয়তন বৃদ্ধি করা জরুরি বলে মন্তব্য করেন বক্তারা। সম্মাননা দেয়া হয় শ্রমিক আন্দোলনের প্রবাদ প্রতিম পুরুষ জসিম উদ্দিন ম্ললকে। সম্মাননা প্রাপ্তির পর অনুভূতি প্রকাশ করেন জসিম উদ্দিন মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সমাজ ব্যবস্থা ধনী-গরিবের বৈষম্যকে দূর না করে বরং তা জিইয়ে রাখতে চায়, তাই এ সমাজ ভাঙতে হবে বলে। তিনি আরও বলেন, কৃষক-শ্রমিক-মেহনতী মানুষের সমতা প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। আর গান, নাচ, নাটকের মাধ্যমে এ লড়াইয়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে উদীচী। তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়ে তাদের কাছে সাম্যবাদ, মুক্তির বার্তা শোনানোর জন্য তিনি উদীচীর শিল্পী-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।
উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শেষ শুরু হয় সাংগঠনিক পর্ব ও কাউন্সিল অধিবেশন। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন উদীচীর বরিশাল, চট্টগ্রাম এবং ঢাকা বিভাগের শিল্পীরা। এই দিন পরিবেশিত হয় অনিক বসুর পরিচালনায় ‘স্পন্দন’-এর দলীয় নৃত্য প্রযোজনা। আবৃত্তি করেন জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় ও বেলায়েত হোসেন। দুই দিনের সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন শনিবার সকাল ১০টায় শুরু হবে সম্মেলনের সাংগঠনিক পর্ব কাউন্সিল অধিবেশন। দিনব্যাপী নানা সাংগঠনিক কার্যক্রম শেষে আগামী দুই বছরের জন্য নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন এবং তার শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ পর্বটি। সন্ধ্যা ছয়টায় সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেবে উদীচীর সিলেট, খুলনা এবং রংপুর বিভাগের শিল্পীরা।