আসামে ৮০ জনকে হত্যা: সেনা অভিযান শুরু

 
ভারতের আসাম রাজ্যে শোনিতপুর ও কোকরাঝাড় জেলায় হামলা চালিয়ে ৮০ জনের বেশি লোককে হত্যায় জড়িত বোড়ো বিদ্রোহীদের সন্ধানে ব্যাপক সেনা অভিযান শুরু হয়েছে।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর ‘অল-আউট’ নামের এই অভিযানে প্রায় পাঁচ হাজার সেনা অংশ নিচ্ছে। অভিযানের প্রথম দিনে সেনারা শোনিতপুরে চিরুনি তল্লাশি চালানো হয়েছে বলে সেনা সূত্র জানিয়েছে। সেনাবাহিনীর স্থল অভিযানের পাশাপাশি সামরিক হেলিকপ্টারও অভিযানে অংশ নিচ্ছে। খবর:বিবিসি।
এদিকে, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সেনা অভিযানে বাংলাদেশ, ভুটান ও মিয়ানমারের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
শুক্রবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ আহবান জানিয়েছে বলে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। দেশটির পুলিশ বলছে, আসামে জঙ্গি হামলার পর সংগঠনের অনেক নেতা মিয়ানমারে পালিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ প্রেক্ষিতে ভারতের কনিষ্ঠ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন,  জঙ্গিদের খুঁজে বের করতে এবং দেশে ও দেশের বাইরে তাদের ঘাঁটি গুড়িয়ে দেয়ার বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয়ী।   
সেনা অভিযানের আগে  ভারতের সেনাপ্রধান ডি এস সুহাগ দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় সেনা অভিযান সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করেন তিনি।
সেনা সূত্র জানায়, অভিযানের প্রথম দিনে শোনিতপুর থেকে ভূটানগামী মূল সড়কে সেনা উপস্থিতি জোরদার করা হয়েছে।
আসামে নিষিদ্ধ বোড়ো সংগঠন এনডিএফবির একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলায় শোনিতপুর ও কোকরাঝাড় জেলায় চা বাগানের শ্রমিকদের মৃত্যুর ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বারোটি আদিবাসী সংগঠন গতকাল আসামে বারো ঘন্টার ধর্মঘটের ডাক দেয়। ধর্মঘটে বিক্ষিপ্ত সহিংসতার ঘটনা ঘটে।
আসামের শোনিতপুর ও কোকরাঝাড় জেলায় গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অন্তত পাঁচটি গ্রামে বোড়ো জঙ্গীদের হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮৩ জনে দাঁড়িয়েছে। শোনিতপুরে মারা গেছে ৪১ জন এবং কোকরাঝাড়ের ৪২ জন।
এনডিএফবি (সংবিজিত্) গোষ্ঠীর জঙ্গীরা মূলত চা-বাগিচার আদিবাসী শ্রমিক পরিবারগুলোর নারী-শিশু-পুরুষদের বাড়ি থেকে বের করে এনে তাদের সারি বেঁধে দাঁড় করিয়ে নির্বিচারে গুলি চালায়।
বৃহস্পতিবার রাতেও আসামের বিভিন্ন জায়গায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ জানায়। ইতিমধ্যে
উপদ্রুত দুই জেলা থেকে প্রায় ১০ হাজার মানুষ পালিয়ে বিভিন্ন ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে।