রাজধানীতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত ৩

 
 
 
 
 
  
রাজধানীর গুলশান ও রামপুরায় পৃথক ঘটনায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে তিন ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন— গুলশানের ঠিকাদার মহিউদ্দিন (২৬) এবং তার চাচাতো ভাই রমজান আলী (৩০) ও রামপুরায় ইট বালু ব্যবসায়ী বাদল খান (৪৫)।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার দিনগত রাত দুইটার দিকে শাহজাতপুরের জিপি ক-৬১ নম্বর বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে মহিউদ্দিন ও রমজানকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদেরকে রাতেই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আহতদের চাচাতো ভাই আলী হোসেন জানান, কয়েক দিন আগে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী আবুল কাশেমের সাথে মহিউদ্দিনের ঝগড়া হয়। মহিউদ্দিন মাদক ব্যবসায় বাধা দিলে বিরোধের সৃষ্টি হয়। তারই জের ধরে রাত ২টার দিকে বাসা থেকে ডেকে নেয় মহিউদ্দিনকে। এ সময় রমজানও সাথে ছিল। বাসা থেকে বের হয়ে ওরা একটু সামনে গেলেই কাশেমের লোকজন তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে মহিউদ্দিন ও রমজানের মাথাসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে গুলিবিদ্ধ হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন গুলির শব্দ পেয়ে এগিয়ে আসলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে মেডিক্যালে ভর্তি করেন।
তিনি বলেন, মেডিক্যালের কর্তব্যরত চিকিত্সক জানিয়েছেন তাদের দু’জনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।
তবে আহত রমজানের বাবা সাইদুর রহমান জানান, মহিউদ্দিনের সাথে রফিক নামে এক ব্যক্তির ব্যিবসায়ীক দ্বন্দ্ব ছিল। বেশ কিছু দিন ধরে রফিক মহিউদ্দিনকে বিভিন্ন ভাবে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে। তার ধারাবাহিকতায় বাসা থেকে ডেকে নিয়ে দুর্বৃত্তরা গুলি ছোড়ে। রফিক ও মহিউদ্দিনের শত্রুতার বিষয়টি তিনি রমজানের কাছ থেকে প্রায় সময়ই শুনতে বলে জানান সাইদুর রহমান। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফিরোজ কবির জানান, গুলির ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আহতদের আবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের জবানবন্দিও নিতে পারেনি পুলিশ।
এ দিকে শুক্রবার বিকালে রামপুরা ওয়াবদা রোডে সন্ত্রাসীদের গুলিতে বালু-ইট ব্যবসায়ী বাদল খান আহত হন। তিনি ওয়াবদা বাগিচার টেক ৪৭ নম্বর বাসায় থাকেন। বাদল খান জানান, তিনি বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে সুজনসহ তিনজন একটি মোটরসাইকেল যোগে এসে তার গতিরোধ করে বলেন, ‘এই দুই লাখ টাকা দিলি না?’ এ কথা বলার পরই বাদল খানের হাঁটুতে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়।
বাদল খান আরও জানান, সজল নামে এক চাঁদাবাজ গত ১৫/২০ দিন আগে তার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা দিতে না চাওয়ায় সজলের লোকজন গুলি করেছে বলে বাদল দাবি করেন। এ ব্যাপারে রামপুরা থানার ডিউটি অফিসার এসআই আব্দুর রশিদ বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।