সরকারের উদাসীনতায়ই সুন্দরবনে ট্যাংকার ডুবির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপির তদন্ত কমিটি। তারা দাবি করেন, ঘটনার পর সরকার এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর তত্পরতার অভাব ও সমন্বয়হীনতা ছিল।
শেলা নদীতে ট্যাংকার ডুবির ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন তুলে ধরতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে গতকাল শুক্রবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এসব কথা বলেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মনা, খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র মনিরুজ্জামান মনি প্রমুখ।
হাফিজ বলেন, যে ট্যাংকারটি দুর্ঘটনার শিকার হয়, তার কোনো ফিটনেস সার্টিফিকেট ছিল না। অবৈধভাবে অবৈধ রুটে চলাচল করছিল। এটি তেলবাহী ট্যাংকার ছিল না, এটি বালু ও পাথরবাহী কার্গো। এটির মালিক সরকারের একজন মন্ত্রীর শ্যালক।
হাফিজ উদ্দিন বলেন, বিএনপির ৫ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি ২২ ডিসেম্বর থেকে এক সপ্তাহব্যাপী কাজ করে। এ সময় ওই এলাকায় মাছ, ইরাবতি ডলফিনসহ অন্যান্য জলজ প্রাণীর প্রাণের স্পন্দন ছিল না। গাছের শ্বাসমূল কালো হয়ে গেয়ে। পাখিও তেলের সংস্পর্শে প্রজনন ক্ষমতা হারাতে বসেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তিনি বলেন, ট্যাংকার ডুবির ৪৮ ঘণ্টা পরেও সরকার তেল নিঃসরণে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। দুর্ঘটনার পর কোস্টগার্ডকে নিয়োজিত করলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানো যেতো।
বিএনপির তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারের পক্ষ থেকে তেল অপসারণে দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়ায় শেলা, পশুর, বলেশ্বর নদী ও অসংখ্য খালের ভেতর দিয়ে তেল ছড়িয়ে পড়ে সুন্দরবনে, যা সুন্দরবনের বৃক্ষরাজি, মত্স্য সম্পদ ও জীব বৈচিত্র্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। তেলযুক্ত পানি, বনজসম্পদ, মত্স্য ও প্রতিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করেছে।
তিনি বলেন, ঘষিয়াখালী-মংলা চ্যানেল বন্ধ হওয়ার পর নৌ মন্ত্রণালয় সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে শেলা নদীকে অবৈধ রুট হিসেবে ব্যবহার করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিরেকে বন বিভাগের আপত্তি উপেক্ষা করে এ রুট ব্যবহার করা হচ্ছিল।
বিএনপির ৬ সুপারিশ
সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে শেলা নদীসহ সকল নদীর ওপর দিয়ে সব ধরনের নৌযান চলাচল স্থায়ীভাবে বন্ধ, ঘষিয়াখালী-মংলা চ্যানেল চালু, সুন্দরবনের ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুেকন্দ্র, জাহাজ ভাঙা শিল্পসহ সব লাল শ্রেণীর শিল্প স্থাপন বন্ধ, ট্যাংকার ডুবির ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় এনে শাস্তিদান, ক্ষতিপূরণ আদায় করা, নৌপথে টহল জোরদার, সুন্দরবনের নিরাপত্তা জোরদার এবং বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বয়ংসম্পূর্ণ কর্তৃপক্ষ গঠনের সুপারিশ করেছে বিএনপির তদন্ত কমিটি।