‘ছেলেকে জীবিত দেখতে চাই, আমরা গ্রামে চলে যাব’



 ‘আমার কলিজার টুকরা জিহাদকে জীবিত দেখতে চাই। আমি ছেলেকে নিয়ে গ্রামে চলে যাবো। আমি আর ঢাকায় থাকব না।’ কাঁদতে কাঁদতে একথা বলছিলেন জিহাদের বাবা নাছির উদ্দিন। দুই বছর আগে তিনি মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল এ্যান্ড কলেজের নৈশ্যপ্রহরীর চাকরি নেন। স্ত্রী ও দুই ছেলে এক মেয়েকে নিয়ে রেলওয়ে কলোনীতে ভাড়া বাসায় থাকেন। গত রাত একটা    ২০ মিনিটে দৈনিক ইত্তেফাকের সাথে কথা বলার সময় কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। জিহাদের মা খাদিজা বেগমের বুক ফাটা কান্নায় রেলওয়ে কলোনীর আকাশ ভারী হয়ে ওঠে।
যে মাত্র তিনি ইত্তেফাকের কথা শুনলেন এমনি বুক থাবড়ে বলে ওঠলেন, বাবা আমার নাড়ি ছেড়া জিহাদের খবর কি?
নাছির উদ্দিন জানান, অন্যান্য দিনের মতো প্রতিবেশী কয়েক বন্ধুর সাথে জিহাদ বিকালে খেলতে যায়। তার বাসার একটি ভবনের পরই এই দুর্ঘটনা ঘটে। জিহাদের গায়ে ছিল হলুদ রংয়ের সোয়েটার ও পরনে হাফ প্যান্ট। বাসা থেকে বের হওয়ার আগে জিহাদ তার মা খাদিজাকে বলে, মা আমি খেলতে যাচ্ছি-এই ছিল মায়ের জিহাদের সঙ্গে শেষ কথা।
সাড়ে তিনশ’ ফুট পাইপ উদ্ধারের পর রাতে তার পিতা নাছিরের মনে আশার আলো জাগে-এই বুঝি ছেলে উদ্ধার হবে। এর মধ্যে সাভার রানা প্লাজার উদ্ধার কর্মী বশির আহমেদ ঘটনাস্থলে আসেন। সাভার রানা প্লাজা ধ্বংস স্তূপ থেকে জীবন বাজি রেখে আটকা পড়াদের মধ্যে অনেককে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেন তিনি। জিহাদকে উদ্ধারে সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে ঘটনাস্থলে আসেন। তার আগমনের কথা শুনে নাছিরের মনে সান্ত্বনা আসে। কিন্তু হঠাত্ ওয়াসা ও বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দল বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি ‘ক্যাচার’ এর সাহায্যে জিহাদকে সর্বশেষ উদ্ধারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সেই কার্যক্রমও শুরু করা হয়। এখন পর্যন্ত সেই উদ্ধারে আশানুরূপ ফলাফল দেখতে না পাওয়ায় নাছির উদ্দিন হতাশ। তিনি বলেন, আমার শিশুপুত্রের ভাগ্যে কি ঘটে আমি তা জানি না। আল্লাহ আমার সহায়।