বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবদ্দশায় তত্কালীন অবিভক্ত বাংলায় তার নামে প্রতিষ্ঠিত একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নওগাঁর রাণীনগরের ঐতিহ্যবাহী ‘বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ উচ্চ বিদ্যালয়’। এই বিদ্যালয়ে ঐ সময়ে নির্মিত কয়েকটি মাটির কক্ষসহ তাঁর ব্যবহার্য জিনিসপত্র অরক্ষিত রয়েছে। সংরক্ষণের অভাবে হারাতে বসেছে বিশ্বকবির বিভিন্ন নিদর্শন।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৮৮৫ সালের শুরুর দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া কালীগ্রাম পরগনার জমিদারি দেখাশুনার জন্য রাতোয়াল গ্রামে আসতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন প্রজাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে শিক্ষার বিকল্প নেই। এ উপলব্ধি থেকেই তিনি সেই সময়ের কিছু বিত্তবানদের সহায়তায় রাতোয়াল গ্রামে তার নামে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।
সেই সময়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ম্যানেজার শ্যামানন্দ গুহ কালিগ্রাম পরগনার এই মূল জমিদারি (পতিশর ষ্ট্রেট) দেখাশুনা করতেন এবং তার ছেলে নিত্যানন্দ গুহ ( নিতাই বাবু) দেখাশুনা করতেন সাবষ্ট্রেট তথা এই এলাকা। তাদের সার্বিক সহযোগিতায় তত্কালিন রাতোয়াল গ্রামের আক্কাছ আলী পণ্ডিত, শমসের আলী আকন্দ, কফিল আলী আকন্দ এবং এরফান আলী আকন্দকে সঙ্গে নিয়ে এই ঐতিহ্যবাহি বিদ্যালয়টির পথচলা শুরু হয়। বিদ্যালয়টি তত্কালীন সময়ে আজিজুল্লাহ্ আকন্দের বৈঠকখানায় শুরু হলেও পরবর্তিতে রবীন্দ্র ষ্ট্রেটের নিজেস্ব সম্পত্তির উপড় মাটির কয়েকটি ঘর তৈরি করে প্রাথমিক ভাবে শিক্ষাদান শুরু হয়। তখন হেড পণ্ডিত হিসেবে রাতোয়াল গ্রামের আক্কাছ আলী পণ্ডিত -এর উপর বিদ্যালয়টির দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। পরবর্তিতে আরো অনেকেই ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যালয়টির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিদ্যালয়টি ১৯৯৩ সালে একাডেমিক স্বীকৃতি লাভ করে।
বিশ্বকবিকে প্রত্যক্ষভাবে দেখার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী রাতোয়াল গ্রামের শরফরাজ আলী আকন্দ (৯৮) স্মৃতিচারন করতে গিয়ে বলেন, বিশ্বকবি নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর শেষ বারের মত যখন তার পতিশর জমিদারি দেখতে আসেন তখন তিনি এই বিদ্যালয়টিতে ৫ম শ্রেণিতে পড়তেন। বিশ্বকবিকে প্রত্যক্ষ ভাবে দেখার জন্য এই বিদ্যালয় থেকে তিনিসহ আরও অনেক ছাত্ররা পতিশরে পায়ে হেঁটে গেছেন।
বিশ্বকবির স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়টিতে আধুনিকতার ছোঁয়া থেকে অনেক পিছিয়ে। সংরক্ষণের অভাবে বিশ্বকবির স্মৃতি বিজড়িত মাটির তৈরি কক্ষগুলো এবং কবির ব্যবহার্য নানান জিনিস পত্র নষ্ট হয়ে বিলুপ্তির পথে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক/কর্মচারি, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর দাবি, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই ঐতিহাসিক নিদর্শনকে যেন অতি দ্রুত সরকারি ভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।