থানায় ডেকে নিয়ে পুলিশ নির্যাতন চালিয়েছে জিহাদের বাবা নাসির উদ্দিনের ওপর। দেশের পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে জিহাদকে লুকিয়ে রেখে এরকম ঘটনা সাজানো হয়েছে বলে পুলিশ নাসির উদ্দিনের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করে।
গতকাল দুপুর ২টার দিকে শাজাহানপুর থানা থেকে মুক্তি পেয়ে বাসায় ফেরার পর নাসির উদ্দিন এই অভিযোগ করেন। শাজাহানপুর রেল কলোনির ৪১ নম্বর ভবনের দোতলায় নাসির উদ্দিনের বাসায় মানুষের ভিড়। থানা থেকে আসার পর নাসির উদ্দিন বাসার চৌকিতে শুয়ে পড়েন। একজন প্রতিবেশী তার মাথায় পানি ঢালেন। নিজের শার্ট খুলে পিঠের দাগ দেখিয়ে বলেন, ‘দেখছেননি ভাই পুলিশ ক্যামনে পিটাইছে। আমি নাকি ছেলেরে লুকাইয়া রাখছি। কন, নিজের ছেলেরে কেউ লুকিয়ে রাখে।’ এমন অবস্থায় আরেক ঘরের খাটে জিহাদের মা খাদিজা বেগম বার বার জ্ঞান হারাচ্ছিলেন। প্রতিবেশী মহিলারা তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন।
দুপুর ৩টার দিকে জিহাদের লাশ উদ্ধারের পর নাসির উদ্দিন ছুটে যান ঘটনাস্থলে। পরে লাশ র্যাবের গাড়িতে নেয়ার সময় তাকেও ঐ গাড়িতে উঠিয়ে নেয়া হয়। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে জিহাদকে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত ঘোষণার পর পুলিশ নাসির উদ্দিনকে একটি গাড়িতে তুলে নেয়। তাকে নেয়া হয় পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনারের অফিসে। উপ-কমিশনার আনোয়ার হোসেন জানান, আসলে কী ঘটেছিল, সেটি জানার জন্য জিহাদের বাবা নাসির উদ্দিন ও প্রত্যক্ষদর্শী শিশু পুষ্পিতা ও ফাতেমার সাথে কথা বলা হয়েছে। পরে পুলিশ হেফাজতেই তাদেরকে বাসায় পৌঁছে দেয়া হয়।
জিহাদের মামা মনির হোসেন অভিযোগ করেন, প্রশাসনের ব্যর্থতার কারণেই জিহাদকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা যায়নি। ওয়াসার নতুন পাম্প স্থাপনকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেখানে বিপজ্জনক অবস্থায় পরিত্যক্ত কূপের মুখ খুলে রেখেছিল। এ কারণে তারা ওয়াসার বিরুদ্ধে মামলা করবেন।