জিহাদ ট্রাজেডি

অভিযুক্ত প্রকৌশলী ও ঠিকাদার পালিয়েছে

শিশু জিহাদের বাবার দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত রেলওয়ের সিনিয়র উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর  আলম ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জেএসআর-এর মালিক আব্দুস সালাম গতকাল রবিবার পর্যন্ত গ্রেফতার হননি। এদিকে গতকালও দিনভর ঘটনাস্থলে (শাহজাহানপুর রেল কলোনী মৈত্রী সংঘ মাঠের কাছে) ভিড় করেছেন বহু উত্সুক মানুষ। সেখানে মোয়াতেন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। পরিত্যক্ত নলকূপের পাইপে পড়ে শিশু জিহাদের মৃত্যুতে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক আব্দুস সালাম ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলমকে আসামি করে শনিবার রাতে শাহজাহানপুর থানায় মামলা করেন জিহাদের বাবা নাসির উদ্দিন ফকির। মামলা নম্বর-২১। ফৌজদারি আইনের ৩০৪/ক ধারায় করা এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবেহেলার কারণে জিহাদের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

গত শুক্রবার বিকালে রেল কলোনীর পরিত্যক্ত ওই নলকূপের পাইপে জিহাদ পড়ে যাওয়ার পর রাত দশটার দিকে প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পাশাপাশি প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে করা হয় কালো তালিকাভুক্ত।
মামলা তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে শাহজাহানপুর থানার অফিসার ইনচার্জ-এর সঙ্গে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার আনোয়ার হোসেন বলেন, আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ঘটনার পরপরই তারা পালিয়েছে।
শাহজাহানপুর থানার ওসি তদন্ত মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ বলেন, আসামিদের মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক আব্দুস সালামের ঠিকানা পাওয়া গেছে। গতকাল মুগদাপাড়ায় তার বাসায় অভিযান চালানো হয়। কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি। অপর আসামি জাহাঙ্গীর আলমকেও পাওয়া যায়নি।
সেই নলকূপের পাশে উত্সুকদের ভিড়
শাহজাহানপুর রেল কলোনীর সেই অভিশপ্ত নলকূপ ঘিরে গতকালও দিনভর ছিল উত্সুক মানুষের ভিড়। তবে জিহাদ উদ্ধারের পরপরই নলকূপের মুখটি লোহার ঢাকনি দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়। পাশাপাশি জিহাদের মৃত্যু নিয়ে যাতে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য শনিবার রাতেই মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ।
রেলওয়ের তদন্ত কমিটি
শিশু জিহাদের মৃত্যুর ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। শনিবার রাতে তিন সদস্যের এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী আহম্মদ উল্লাহ জানান, রেলওয়ের ঢাকা বিভাগের প্রকৌশলী-৩ কে আহ্বায়ক করে ওই কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, জিহাদ যে নলকূপে পড়ে গিয়েছিল সেটা কার নির্দেশে, কেন স্থাপন করা হয়েছিল, রেলওয়ের কোনো কর্মকর্তা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো গাফিলতি ছিল কিনা তা যাচাই-বাছাই করে রিপোর্ট দেবে তদন্ত কমিটি।