রবিবার নিখোঁজ হওয়া মালয়েশিয়াভিত্তিক বিমান কোম্পানি এয়ার এশিয়ার নিখোঁজ বিমানটি সম্ভবত সমুদ্রের তলদেশে রয়েছে। গতকাল সোমবার ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় তল্লাশী ও উদ্ধারকারী সংস্থার প্রধান বামাবাং সোয়েলিসতিয়ো এক সংবাদ সম্মেলনে এই কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের তল্লাশী ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে বিমানটি সাগরে বিধ্বস্ত হয়েছে। এরপর এটি ডুবে গিয়ে সাগরের তলে পৌঁছে গেছে।’
এদিকে গতকাল থেকে আবারো অনুসন্ধান কাজ শুরু করা হয়েছে। কিন্তু কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সকালের দিকে সাগরে ভাসমান কিছু বস্তুকে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ মনে করা হয়েছিল। কিন্তু পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা যায়, এগুলোর সাথে বিমানটির কোনো সম্পর্ক নেই। ইন্দোনেশিয়ার ন্যাশনাল সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ এজেন্সির ডেপুটি অপারেশন্স চিফ তাতাং জয়েনউদ্দিন বলেন, ‘এয়ার এশিয়ার ওই বিমানের খোঁজে আজ স্থানীয় সময় ভোর ছয়টা থেকে তল্লাশি শুরু করেছি। আমরা পূর্ব বেলিতাং দ্বীপের দিকে যাচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আশা করছি মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর জাহাজ ও বিমান দিয়ে আমাদের তল্লাশি অভিযানে সহযোগিতা করবে। শিগগিরই নিখোঁজ বিমানের খোঁজ পাব বলে আশা করছি।’
এয়ার এশিয়ার এ ৩২০-২০০ সিরিজের বিমানটি পূর্ব জাভার সুরাবাইয়ার জুয়ান্দা বিমানবন্দর থেকে সিঙ্গাপুরে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়। বিমানটিতে সাতজন ক্রু ও ১৫৫ জন যাত্রী ছিলেন। যাত্রীদের মধ্যে ১৩৮ জন প্রাপ্তবয়স্ক ও ১৬ শিশু রয়েছে। নিখোঁজ যাত্রীদের মধ্যে ১৪৯ জন ছিল ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক। নিখোঁজ বাকি ছয় যাত্রীর মধ্যে তিনজন কোরিয়ার নাগরিক। এ ছাড়া মালয়েশিয়া, ব্রিটেন ও সিঙ্গাপুরের একজন করে নাগরিক ছিল। ইন্দোনেশিয়ার বিমান বাহিনীর মুখপাত্র হাদি কাহিয়ান্ত বার্তা সংস্থা এএফপি’কে বলেন, দুটি সি-১৩০ সামরিক পরিবহন বিমান ও একটি বোয়িং ৭৩৭ সহ পাঁচটি বিমান নিখোঁজ বিমানের অনুসন্ধানে পাঠানো হবে। তিনি বলেন, ‘দুটি বিমান ইতিমধ্যে পাঠানো হয়েছে। আরো তিনটি পাঠানো হবে। ইন্দোনেশিয়ার বেশ কিছু স্থানের আকাশ মেঘলা। তবে সব কিছু পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে।’ তিনি আরো বলেন, বেলিতাং দ্বীপের পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের জলসীমায় অনুসন্ধানের ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
এদিকে, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর উদ্ধার অভিযানে যোগ দিয়েছে। এসব দেশ মূলত জাভা সাগরে তল্লাশি চালাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রও তল্লাশি অভিযানে সহায়তার প্রস্তুতির কাথা জানিয়েছে। অপরদিকে নিখোঁজ যাত্রীদের স্বজনেরা আপনজনদের খোঁজ পেতে ব্যাকুল হয়ে উঠেছেন। তারা রাতভর সুরাবাইয়ায় অপেক্ষা করেছেন। বিমানবন্দরের ক্রাইসিস সেন্টারে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
এয়ার এশিয়ার নিখোঁজ ফ্লাইটের সন্ধানে আন্তর্জাতিক অনুসন্ধান প্রচেষ্টাকে সহায়তা করতে চীন সোমবার বিমান ও জাহাজ পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একথা জানায়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনিং বলেন, ‘চীন ইতোমধ্যে ইন্দোনেশিয়াকে জানিয়েছে যে, তারা এ অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে জরুরি ভিত্তিতে অংশ নিতে বিমান ও জাহাজ পাঠাতে আগ্রহী। বেইজিং ইন্দোনেশিয়ার প্রয়োজন মোতাবেক অন্যান্য সহযোগিতাও দেবে।