বাংলাদেশ বিমানের যেখানেই হাত দিচ্ছে, সেখানেই শুধু অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা আর দুর্নীতি দেখছে সংসদীয় কমিটি। প্রতিষ্ঠানটির জনবলের সংখ্যা নির্ধারণ, লোক নিয়োগ ও এয়ারক্রাফট কেনা থেকে শুরু করে সর্বত্রই অনিয়ম। গতকাল রবিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব অনিয়ম পর্যালোচনায় কমিটি দেখতে পায়, লোকবল নির্দিষ্ট সংখ্যায় না কমানোর ফলে বিমানের প্রায় ৫০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। আর ইঞ্জিনবিহীন এয়ারক্রাফট (এয়ার ফ্রেম) কিনে হ্যাংগারে ফেলে রেখে বীমা প্রিমিয়াম পরিশোধ করায় প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২ কোটি ২১ লক্ষ টাকা। এসব আর্থিক ক্ষতির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য কমিটি সুপারিশ করেছে।
কমিটি সভাপতি ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটি সদস্য- আমান উল্লাহ, মঈন উদ্দীন খান বাদল, একেএম মাঈদুল ইসলাম, রুস্তম আলী ফরাজী ও ওয়াসিকা আয়েশা খান অংশ নেন। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব খোরশেদ আলম চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এতে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে জানানো হয়, দেশে জরুরি অবস্থার সরকার থাকাকালে ২০০৭ সালে স্বেচ্ছায় অবসর স্কীমের আওতায় মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী বিমানের অনুমোদিত জনবল ৬ হাজার ৮৩৭ থেকে ৩ হাজার ৪শ’-তে নামিয়ে আনা হয়। কিন্তু লোকবল নির্দিষ্ট সংখ্যায় না কমানোর ফলে প্রায় ৫০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়। বিমানে প্রয়োজনীয় লোকবলের সংখ্যা নির্ণয়পূর্বক তিন মাসের মধ্যে জনবল যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার সুপারিশ করেছে কমিটি। বিমান মন্ত্রণালয়াধীন চারটি প্রতিষ্ঠানের ২০০৮-০৯ অর্থবছরের হিসাব সম্পর্কিত মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের বার্ষিক অডিট রিপোর্টের অডিট আপত্তি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি না দিয়েই এবং ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও বিমানে অনিয়মিতভাবে কর্মচারী নিয়োগের ঘটনা ঘটেছে অহরহ। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার জন্য কমিটি তাগিদ দেয়।
হজ্বের টাকা জমা দেয়ার সময় বাড়ানোর সুপারিশ
এদিকে, হজ্বের টাকা জমা দেয়ার সময় বাড়ানোর সুপারিশ করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। গতকাল অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এই সুপারিশ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কমিটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বসবে বলেও বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়। উল্লেখ্য, সম্প্রতি মন্ত্রিসভার বৈঠকে ২০১৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হজ্বের টাকা জমা দেয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এ নিয়ে অনেকে আপত্তি তুলেছেন।
কমিটি সভাপতি বজলুল হক হারুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারি সাংবাদিকদের বলেন, যেহেতু মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে, সে কারণে সময় বাড়ানোর বিষয়ে আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করবো।
বৈঠকে জানানো হয়, প্রায় ১ লাখ একর ওয়াক্ফ সম্পত্তি বেহাত হয়ে আছে। তালিকা অনুযায়ী ২০ হাজার ওয়াক্ফ স্টেট থাকলেও এরমধ্যে ৫ হাজারের কোনো কার্যক্রম নেই। কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন ও দিলারা বেগম বৈঠকে অংশ নেন।