সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সরকার আর সহ্য করবে না: প্রধানমন্ত্রী

 
 
 
 
 
 
 
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা নোয়াখালীতে নারী স্কুল শিক্ষক হত্যাকাণ্ড এবং ঢাকায় অপর এক নারী শিক্ষক অগ্নিদগ্ধ হওয়ার ঘটনায় বিএনপি-জামায়াতকে দায়ী করে বলেছেন, ‘যারা এ ধরনের জঘন্য অপরাধ করেছে, তাদের অবশ্যই খুঁজে বের করা হবে এবং বিচারের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হবে। প্রয়োজনে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে। কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সরকার আর সহ্য করবে না।’ মানুষ হত্যা ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি থেকে বিরত থাকার জন্য তিনি বিএনপি-জামায়াতের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
মঙ্গলবার গণভবনে প্রাথমিক স্কুল সার্টিফিকেট (পিএসসি), জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) এবং সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ সব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মুস্তাফিজুর রহমান এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল হস্তান্তর করেন। প্রধানমন্ত্রী একই অনুষ্ঠান থেকে ২০১৫ সালের শিক্ষাবর্ষের জন্য সারা দেশে পাঠ্যবই বিতরণ কর্মসূচিরও উদ্বোধন করেন। সবার জন্য শিক্ষা কর্মসূচি নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই প্রথমবারের মতো মাল্টিমিডিয়া গ্রন্থের বিতরণ ও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি শেখ হাসিনা সব শিক্ষার্থীর জন্য উপযোগী মিডি ভারসনে পূর্ণাঙ্গ অডিও ডিজিটাল মাল্টিমিডিয়া গ্রন্থের একটি পূর্ণাঙ্গ টেক্স উদ্বোধন করেন।
শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচি না দিতে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নোয়াখালীতে স্কুল শিক্ষকের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের জন্য বিএনপি-জামায়াতই দায়ী। বিএনপি-জামায়াতের এ ধরনের অপরাধের নিন্দা জানানোর ভাষা আমার নেই। দেশের জনগণ যে মুহূর্তে শান্তিতে বসবাস করছে, ঠিক সে সময় এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর কোনো যৌক্তিকতা থাকতে পারে না।’ তিনি বলেন, ‘সোমবারের বিএনপি-জামায়াতের হরতাল ডাকার কি যৌক্তিকতা থাকতে পারে, আমার জানা নেই।’ হরতাল আহ্বানকারী বিএনপি-জামায়াতের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘মানুষ খুন করে কী ভাবে তারা মানুষের সমর্থন পাবে? তবে যে এলাকায় ওই শিক্ষিকাকে হত্যা করা হয়েছে, আমরা সেখানে তদন্ত করব, জড়িতদের খুঁজে বের করব। এ ধরনের খুন বন্ধ করতে যতটা কঠোর হওয়া প্রয়োজন সরকার তা হবে।’
মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনে আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সেখানে স্কুল মাদ্রাসার প্রাথমিক-ইবতেদায়ী আর মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতি শ্রেণির একজন করে প্রতিনিধি শিশু-কিশোরের উপস্থিতি ছিল। শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদই সব শ্রেণির বই থেকে তৈরি একটি সেট প্রধানমন্ত্রীকে উপহার হিসেবে তুলে দেন। বই হাতে নিয়ে বিস্মিত প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘এগুলো আমার বই! তাহলে তো এবার আমি স্কুলে যাওয়া শুরু করতে পারি!’ এভাবেই প্রধানমন্ত্রী যেন ফিরে গেলেন তার ছেলেবেলায়। বক্তৃতায় ঘুরে ফিরে আসছিল স্কুলের কথা, ছেলেবেলার কথা। শিশুদের দিকে তাকিয়ে তিনি বলছিলেন, ‘স্কুলের শিশুরা বই পেলে কত খুশি হয়, এখন বইয়ে নাম লিখতে হবে! মলাট দিতে হবে! কত কাজ! তাই না!’ শিশুরাও মাথা নাড়িয়ে, মুখে সলাজ হাসি ছড়িয়ে সায় দিচ্ছিল প্রধানমন্ত্রীর কথায়।
সময়মতো শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিতে পারায় সংশ্লিষ্টদের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খান এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব কাজী আখতার হোসেন অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবদুস সোবহান সিকদার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব আবুল কালাম আজাদ এবং প্রেস সচিব এ কে এম শামীম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।