‘হরতাল দিয়ে নাগরিকের গণতন্ত্রের অধিকার হরণ কাম্য নয়’

 
                                    
 
মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেছেন, ‘হরতাল পালন করা দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দলের গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু এই হরতালের নামে কোনো নাগরিকের গণতন্ত্রের অধিকার হরণ করা কোনোভাবে কাম্য নয়। হরতাল পালনকারীরা এক শিক্ষিকার মাথায় ঢিল মেরে হত্যা করেছে। সেটি কোনো অধিকার হতে পারে না বরং এটি  মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।’
মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অক্সফাম এবং হাঙ্গার ফ্রি ওয়াল্ড বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ইয়ুথ পার্লামেন্ট অন রাইট টু ফুড’ শীর্ষক এক বির্তক প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এ সব কথা বলেন তিনি।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া। বিশেষ অতিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী শ্রী বিরেন শিকদার, অক্সফাম বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর স্নেহাল ভি. সোনেজি, হাঙ্গার ফ্রি বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মো. আতাউর রহমান মিটুন প্রমুখ। এর আগে সকালে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘ইয়ুথ পালামেন্ট অন রাইট টু ফুড’ শীর্ষক এক বির্তক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জাতীয় সংসদে ‘খাদ্য অধিকার’ কী ভাবে পাশ করতে হয় তা খসড়াভাবে দেখানো হয়।
ড. মিজান বলেন, যে রাষ্ট্রে কোনো নাগরিক বিপদে পড়লে নিরাপত্তাবাহিনী তাকে সাহায্য না করে হয়রানি করে, এমন রাষ্ট্র আমরা চাই না। যখন একটা শিশু গর্তে পড়ে যায়, তখন তাকে ফেলে দেয়া হয়েছে না সে পড়ে গিয়েছে এটা বড় কথা নয়, শিশুকে উদ্ধার করাই রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায়। সেখানে শিশুর বাবাকে পুলিশ কর্তৃক আটক করে তদন্তের নামে হয়রানি করা কখনো রাষ্ট্রের কাজ হতে পারে না। রাষ্ট্রকে তার আচরণে আরো সমীচীন হতে হবে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সব নাগরিকের খাদ্য অধিকার নিশ্চিত করা মানে, খাবার ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়া নয়। এটা এমন একটা ব্যবস্থা, যাতে বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্য মজুদ রাখা এবং নাগরিকগণ সেই খাবার কিনে খাওয়ার সক্ষমতা থাকা।
মো. ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, এ দেশকে বঙ্গবন্ধুর বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশে পরিণত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে এ কথাও মনে রাখতে হবে এ দেশে স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তিরা এখনো সক্রিয়। তাই আর যাতে দেশে জঙ্গির উত্থান না ঘটে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে তরুণরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।
তিনি বলেন, আমাদের সংবিধানে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে কোনো আইন নেই। তবে ভবিষতে বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে। তোমরা আজকে যে আলোচনাটা করেছ, সেটা এই আইনের সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে।