দেশসেরা রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল

জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় সেরা মানদণ্ডের ভিত্তিতে সারাদেশে প্রথম স্থান অর্জন করেছে রাজধানীর রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল এ্যান্ড কলেজ। ২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত টানা প্রথম স্থান ধরে রেখেছে রাজধানীর এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। এ নিয়ে টানা পঞ্চমবারের মতো প্রথম স্থান অর্জন করেছে রাজউক। এ বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৫৩৬ জন ছাত্র-ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫২৮ জন। পাসের হার শতভাগ।

মঙ্গলবার সকালে ঘন কুয়াশা থাকা সত্ত্বেও ফলাফল জানতে শিক্ষার্থীরা জড়ো হতে থাকে রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল প্রাঙ্গণে। সূর্য ওঠার সাথে সাথে শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ ও উত্কণ্ঠা বাড়তে থাকে। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. ইমামুল হুদা স্কুল প্রাঙ্গণে দেশসেরা প্রতিষ্ঠান হওয়ার ঘোষণা দিলে শিক্ষার্থীরা নেচে-গেয়ে উল্লাস করতে থাকে। অনেক শিক্ষার্থী হাতে হাত রেখে, অনেকে বাদ্য বাজিয়ে মুখে ‘রাজউক’ ‘রাজউক’ বলে চিত্কার করে আনন্দ প্রকাশ করে। আবার অনেকেই দল বেধে মোবাইল ফোনে সেলফি তুলে আনন্দ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
রাজউক স্কুল এ্যান্ড কলেজ সূত্রে জানা গেছে, জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা ২০১৪ তে এবার বাংলা মাধ্যম-প্রভাতী শাখায় ১৬১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৬০ জন এবং দিবা শাখায় ১৫০ জনের মধ্যে সকলে জিপিএ-৫ পেয়েছে। ইংরেজি মাধ্যম প্রভাতী শাখায় ১৩১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩০ জন। দিবা শাখা থেকে ৯৪ শিক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৮ জন শিক্ষার্থী। এবার কলেজের পাসের হার শতভাগ এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির শতকরা হার ৯৮ দশমিক ৫১ শতাংশ ।
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. ইমামুল হুদা বলেন, ঢাকা বোর্ডে সম্মিলিত মেধা তালিকায় তথা সারাদেশে প্রথম হয়ে সাফল্যের ধারা বজায় রেখেছে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ। ভালো ফলাফলের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা একটা কঠিন কাজ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানাই। অধ্যক্ষ বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থী, শিক্ষকদের আন্তরিকতা, সচেতন অভিভাবক ও পরিচালনা পর্ষদের সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনায় আমরা ভাল ফলাফল অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি।
সালেহ মামুন, সাকিবুল হক ও শান্তনু রহমান বাংলা মাধ্যম প্রভাতী শাখা থেকে এবার জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। অনুভূতি জানতে চাইলে হাস্যোজ্জ্বল চেহারায় তারা বলে, সকালে শীতের কারণে আমাদের শরীর কাঁপছিল। আর এখন খুশিতে আমরা নাচানাচি করছি। কিভাবে এই ভালো রেজাল্ট জিজ্ঞাসা করতেই ওরা বলে ওঠে, স্যার ক্লাসে লেকচার খুব ভাল করে পড়াতেন। আমরাও লেকচার বুঝে বুঝে বাসায় পড়েছি। আমরা সারাক্ষণ শুধু পড়াশোনা নিয়ে মেতে থাকিনি, সমান তালে বিনোদনেও অংশ নিতাম।
শামাররু, মারুফা, সাবিহা ও আদিবা ওরা সবাই নিজেদের মোবাইল ফোনে সেলফি তুলায় ব্যস্ত ছিল। একই প্রতিষ্ঠান থেকে ইংরেজি মাধ্যম প্রভাতি শাখায় ওরাও সবাই জিপিএ পেয়েছে। ভাল ফলাফলের কারণ হিসেবে ওরা বলে, ক্লাসের মডেল টেস্টে কোন বিষয়ে মার্কস কম পেলে আমাদেরকে আবার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হতো। পরীক্ষা দিতে দিতে বইয়ের কোন অংশই আমাদের আয়ত্বের বাইরে ছিল না।

বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মো. শাহজালাল জানান, অভিভাবক-শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের ত্রিমুখী প্রচেষ্টায় রাজউক তার সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে।