সব গ্যাস সংযোগে প্রি-পেইড মিটার

গ্যাসের অপচয় ও সিস্টেম লস ঠেকাতে সব গ্যাস সংযোগ প্রি-পেইড মিটারভিত্তিক করতে যাচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘ন্যাশনাল গ্যাস এনার্জি ইফিসিয়েন্সি প্রজেক্ট’ শীর্ষক এক প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

এ প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন এলাকায় দুধাপে মোট ৬০ হাজার গৃহস্থালী প্রি-পেইড মিটার স্থাপন করা হবে। শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভাশেষে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের জানান, পর্যায়ক্রমে দেশব্যাপী সবক্ষেত্রে প্রি-পেইড গ্যাস মিটার বসানো হবে।
প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪৬ কোটি টাকা। কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএস) জুলাই ২০১৪ থেকে ডিসেম্বর ২০২০ মেয়াদে প্রকল্প বাস্তবায়িত করবে। বাংলাদেশের প্রধান গ্যাসক্ষেত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম তিতাস ও নরসিংদী গ্যাসক্ষেত্রের চাপ বাড়াতে ৬টি ওয়েলহেড কম্প্রেসর স্থাপনের জন্য একটি প্রকল্প গতকাল অনুমোদন করা হয়।
পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, এ দুটি গ্যাস ক্ষেত্রে গ্যাসের চাপ দিন দিন কমে আসছে। গ্যাসের চাপ এভাবে কমে যেতে থাকলে ৩ থেকে ৭ বছরের মধ্যে এদুটো গ্যাস ক্ষেত্র থেকে জাতীয় গ্রিড লাইনের চাপের সাথে তাল মিলিয়ে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে না। কম্প্রেসর স্থাপনের প্রকল্পটি ২০২০ সালের জুন নাগাদ বাস্তবায়িত করবে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৬৮ কোটি টাকা।
গতকালের সভায় ৭ হাজার ১৭ কোটি টাকার ১১টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল (জিওবি) ২ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা, সংস্থার নিজস্ব তহবিল ২৪ কোটি এবং প্রকল্প সাহায্য ৪ হাজার ৮১৭ কোটি টাকা। অনুমোদিত ১১টি প্রকল্পের মধ্যে নতুন প্রকল্প ১০টি এবং সংশোধিত প্রকল্প ১টি।
সভায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কার্যক্রম আরো যুগোপযোগী ও আধুনিকায়নের জন্য ‘মর্ডানাইজেশন  অব ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স’ প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, শিশু জিহাদের মর্মান্তিক ঘটনাটি আমাদের সবাইকে ব্যথিত করেছে। জিহাদের মর্মান্তিক মৃত্যু, রানা প্লাজা ধস অনেক কিছুর সাথে আমাদের এ শিক্ষা দেয় যে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে আরো আধুনিক করতে হবে। আমার মতে এ ধরনের অনাকাক্ষিত ঘটনা এড়ানো যায় যদি আমরা সবাই আরো সচেতন হই।
এ প্রকল্পের মাধ্যমে ফায়ার সার্ভিসের জন্য উদ্ধারকাজে ব্যবহূত আধুনিক যন্ত্রপাতিসহ ৪টি রেসকিউ কমান্ড ভেহিকল কেনা হবে। এছাড়া ৬০ টন ক্যাপাসিটির ৩টি এক্সকাভেটর, ১টি হেভি ডিউটি ক্রেনও কেনা হবে। অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার কাজে ব্যবহারের জন্য ১২টি টোয়িং ভেহিকল, ১১ হাজার লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ৪টি স্পেশাল ওয়াটার টেন্ডারও এ প্রকল্পের আওতায় ক্রয় করা হবে। অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার কাজে ব্যবহারের জন্য ইমার্জেন্সি টেন্ডার নামের ৫টি ও টার্নটেবল লেডার নামের ৪টি অত্যাধুনিক গাড়িও এ প্রকল্পের মাধ্যমে কেনা হবে।
পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৯৯ কোটি টাকা। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর ২০১৭ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্প শেষ করবে।
সভায় অন্যান্য অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে ‘বহুমুখী দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র (এমডিএসপি) নির্মাণ প্রকল্প’ রয়েছে। বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী এ ৯টি উপকূলীয় জেলার ৭৪টি উপজেলায় জনগণের জানমাল ও গবাদিপশু রক্ষায় ৫৫৬টি সাইক্লোন সেল্টার নির্মাণ করা হবে। বিশ্বব্যাংক এ প্রকল্পে ২৯২৫ কোটি টাকা সাহায্য দেবে।

চট্টগ্রাম-স্বন্দীপ-হাতিয়া-বরিশাল উপকূলীয় রুটে সারা বছর যাত্রীবাহী নৌ-সার্ভিস বজায় রাখতে ২টি জাহাজ নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। এছাড়া দেশের ১৩টি নদী বন্দরে ১ম শ্রেণীর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার নির্মাণ প্রকল্প, মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম (৬ষ্ঠ পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্প, রংপুর বিভাগে মত্স্য উন্নয়ন প্রকল্প, সোনাইমুড়ি, কালিগঞ্জ, আড়াইহাজার এবং মঠবাড়িয়া উপজেলায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও হোস্টেল নির্মাণ প্রকল্প, ‘ব্রুড ব্যাংক স্থাপন (৩য় পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পগুলোর অনুমোদন দেয়া হয়।  এছাড়া হতদরিদ্রের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর ইইপি শীর্ষক প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী অনুমোদন করা হয়েছে।