গণফোরামের সভাপতি ও প্রবীণ আইনজীবী ড. কামাল হোসেন বলেছেন, সরকার মনে করছে তারা আজীবন ক্ষমতায় থাকবে। কিন্তু কেউ যদি মনে করে আজীবন ক্ষমতায় থাকবে তবে তারা পাগলের স্বর্গে বসবাস করছে। যারা ক্ষমতায় আছে তারা ব্যাংক ও শেয়ারবাজার লুট করে জণগনকে ‘ভি চিহ্ন’ দেখাচ্ছে। সরকার আমাদের ঐতিহ্যের সবগুলো খাত নষ্ট করে হলেও তারা ক্ষমতায় থাকতে চায়।
‘৪৩ তম মহান বিজয় দিবস ও বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি’ শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. কামাল এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ মানবাধিকার পর্যবেণ পরিষদ শুক্রবার জাতীয় প্রেসকাব মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করে।
ড. কামাল বলেন, যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করছে তারা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নাগরিকদের কথার কোনো মূল্য তাদের কাছে নেই। জনগণের কথা শোনার মতা তারা হারিয়ে ফেলেছে। ক্ষমতার মালিক জনগণ। ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে এই মালিকানা পেয়েছি। তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা রাষ্ট্রের কাজ। জনগণকে মনে রাখতে হবে আপনারাই রাষ্ট্রের মালিক। আপনাদের অসহায় বোধ করে বসে থাকার কোনো কারণ নেই। ঘরে ঘরে মানবাধিকার রক্ষা করার চেষ্টায় দুর্গ গড়ে তুলতে হবে।
বিচারাঙ্গনের সব ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্তের জন্য প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দেবেন জানিয়ে ড. কামাল বলেন, প্রধান বিচারপতির প্রতি অনুরোধ রাখছি কথায় কথায় ভুল বুঝবেন না। চিঠিটা দিচ্ছি আশা করি দুই লাইনে উত্তর পাবো। অন্তত ১০ জন সাবেক প্রধান বিচারপতি জীবিত আছেন। তাদের নিয়ে কমিটি করে এসবের তদন্ত করতে হবে। সর্বোচ্চ আদালতের দেড়শ বছরের ঐতিহ্য রয়েছে। সরকারের বিরুদ্ধে আদেশ চেয়ে না পেলে স্বাধীনতা অর্থহীন হবে।
তিনি বলেন, প্রতিটি সরকারেই কালা-বোবা লোক থাকে। তবে সবাই কালা-বোবা হয় না। এই সরকারের সবাই কালা-বোবা না। শিশু জিহাদকে উদ্ধারে সরকারের ব্যর্থতা আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, আপনারা কালা-বোবা না থেকে ব্যর্থতার কথা বলুন। আর যেসব সংসদ সদস্যরা মনে করেন আপনাদের সঙ্গে সরকারের মিলছে না, তারা সরে দাঁড়ান। আপনাদের ১৬ কোটি মানুষের কথা শুনতে হবে।
নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, রাষ্ট্র আজ অমানবিক হয়ে গেছে। একজন পিতা তার ছেলে হারিয়ে পাগল প্রায়, অথচ তাকে ধরে নিয়ে ১২ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়েছে। কতবড় অমানবিক হলে এটা সম্ভব।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি নুরুল হুদা মিলুর সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য রাখেন, সাবেক এমপি গোলাম মাওলা রনি, সংগঠনের উপদেষ্ঠা কাজী সিরাজ, বিএইচআরএমসির পরিচালক ব্যারিস্টার মেজর (অব.) সরোয়ার হোসেন, নির্বাহী পরিচালক তালুকদার মুনিরুজ্জামান মনির প্রমুখ।