নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ বা দেশে মধ্যবর্তী নির্বাচনের কোনো সম্ভাবনা নেই মন্তব্য করে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, আমি এমন কোনো সম্ভাবনা দেখি না। দেশে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি যে, মধ্যবর্তী নির্বাচন দিতে হবে।
শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) আয়োজিত মিট দ্য রিপোর্টার্স অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ডিআরইউ সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের জন্য বিএনপিকে আরও চার বছর অপেক্ষা করতে হবে। এর বাইরে আইন হাতে তুলে নিলে কোনো লাভ হবে না। মধ্যবর্তী নির্বাচনের কথা তাদের চিন্তা না করাই ভাল।
এ সময় তোফায়েল আহমেদ গত নির্বাচনের আগে তারানকোর নেতৃত্বে যে সংলাপ হয়েছিল সে প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, সেখানে আমরা বলেছিলাম, আপনারা নির্বাচনে আসেন। প্রয়োজনে নির্বাচনের সময়সূচি পরিবর্তন করব। কিন্তু তাদের একটাই দাবি ছিল- আমাদের পদত্যাগ করতে হবে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। তবে সেই সংলাপের কোনো পর্যায়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা হয়নি বলে তিনি জানান।
নির্বাচনে অংশ না নেয়া বিএনপির ভুল সিদ্ধান্ত ছিল উল্লেখ করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, আপনি সে সময় নির্বাচন কমিশন, আরপিওর আলোচনা করতে পারতেন। কিন্তু তা না করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শর্ত জুড়ে দেয়া হলো। কিন্তু শর্ত দিয়ে সংলাপ হয় না। এখন আমরা নির্বাচন করেছি, সরকার গঠন করেছি। এ সরকার মেয়াদ পূর্ণ করবে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার প্রশাসনিক ও রাজনৈতিকভাবে খুবই শক্ত ও দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। নেতাকর্মীদের মধ্যেও চাঞ্চল্য রয়েছে। অন্যদিকে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে কোনো চাঞ্চল্যই নেই। তারা সাংগঠনিকভাবেও অনেকটা নিস্ক্রিয় অবস্থানে রয়েছে। বিএনপির এ মুহূর্তে উচিত হবে আগামী চার বছর জনমত গড়ে তুলে পরবর্তী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হওয়া।
বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে তারেক রহমানের মন্তব্য প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন লোক। তার সম্পর্কে যে মন্তব্য করা হয়েছে, সে বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই। তারেক রহমানের এ মন্তব্যে সাধারণ মানুষ ও ছাত্রলীগের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগের একটি পবিত্র সংগঠন। যে কোনো লোক একটি অন্যায় করে, কলঙ্ক আসে ছাত্রলীগের ওপর। তাই এ দিকটি ছাত্রলীগকে খেয়াল রাখতে হবে।
রানা প্লাজা ধসের পর বাংলাদেশের ইমেজ সঙ্কটের বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ ঘটনার পরে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে যে ইমেজ সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছিল, তা এখন আর নেই। বিদেশী ক্রেতারা আবার বাংলাদেশের কাছ থেকে পণ্য কিনতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।