ক্যানভাসে রঙের আঁচড়ের ওপরে বালি, কড়ি দিয়ে অনন্য সাধারণ এক কোলাজ। একদিকে ক্যানভাসে শিল্পীর অনন্যসাধারণ উপস্থাপনা, অপরদিকে শিল্পীর বিষয় ভাবনার অভিঘাত। শিল্প রসিকদের দুইভাবেই মোহবিষ্ট করে থাকেন শিল্পী কালিদাস কর্মকার। ‘আমি ছবি আঁকি নিজের জন্য। দেশের জন্য, মানুষ নিয়ে আমার ভাবনার কথা বলতে চাই ক্যানভাসে।’ আবেগপ্রবণ হয়ে শিল্পী কালিদাস কর্মকার বলছিলেন, ‘আমি নিজেকে শিল্পী মনেই করি না। আমি নিরীক্ষা করতে ভালোবাসি। সব সময় আমি নতুন কিছু করতে চেয়েছি।’ শিল্পী কালিদাস কর্মকারের জীবনভর সেই নিরীক্ষাধর্মী কাজের সম্মিলিত যাত্রা উপভোগ করার সুযোগ মিলবে ‘পাললিক প্রত্যাবর্তন’ শীর্ষক প্রদর্শনীতে।
শুক্রবার বিকালে শিল্পকলার জাতীয় চিত্রশালা গ্যালারিতে কথা হয় এই শিল্পীর সঙ্গে। তিনি জানালেন তার শিল্পভাবনার কথা। জীবন-জিজ্ঞাসার কথা। শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা গ্যালারিতে আজ রবিবার বিকাল পাঁচটায় উদ্বোধন হচ্ছে ২৩৮টি ছবি নিয়ে তার ৭০তম একক চিত্র প্রদর্শনী। এদিকে, প্রদর্শনী উপলক্ষে গতকাল বিকালে মিট দ্য প্রেস ও প্রেস প্রিভিউয়ের আয়োজন করেন এই শিল্পী। এতে প্রদর্শনীর বিভিন্ন দিক সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন। এসময় কালিদাস কর্মকার জানান, এ বছর বিশ্বের ১৬টি বড় শহরে একক চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করবেন তিনি।
শিল্পী বললেন, এই অঞ্চলের মানুষের মন পলির মতই নরম। রাজনৈতিক অস্থিরতা, ক্ষমতার লড়াই, বঞ্চনার শিকার ইত্যাদি কারণে মানুষের মন মরে যাচ্ছে। কিন্তু এত অস্থিরতার পরেও শেষ পর্যন্ত সেই মানুষ জেগে উঠছে নিজস্ব স্বকীয়তায়। এবারের ‘পাললিক প্রত্যাবর্তন’ শীর্ষক এ প্রদর্শনীতে সেই দীর্ঘ যাত্রাকেই ফিরে দেখার প্রয়াস।
এ প্রদর্শনীতে শিল্পীর সারাজীবনের যত নিরীক্ষাধর্মী কাজ রয়েছে তা এক ছাদের নিচে দেখার সুযোগ মিলবে। এতে শিল্পী এক্রেলিক, মিশ্র মাধ্যম, গোয়াশ, কোলাজ, ওয়াশি, মেটাল কোলাজ, ড্রইং, ডিজিটাল লিথো, মিশ্র মাধ্যমের স্থাপনা শিল্প স্থান পাবে। এছাড়া নানা উপকরণ দেখা যায় তার ক্যানভাসে। তিনি ব্যবহার করেন নানা ধরনের পাথর, কড়ি, প্রবাল, পোড়া কাগজ, মুক্তা, বিভিন্ন ধরনের কোরাল, কাঁচ প্রভৃতি। শিল্পকলা একাডেমিতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. গওহর রিজভী। বিশেষ অতিথি থাকবেন বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইন্সটিটিউটের প্রেসিডেন্ট ফারুক সোবহান। সভাপতিত্ব করবেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখবেন চারুকলা বিভাগের পরিচালক মোঃ আনোয়ার হোসেন। প্রদর্শনী আগামী ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন দুপুর ১১ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। আর শুক্রবার দুপুর ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে এ প্রদর্শনী।
শিল্পী কালিদাস কর্মকার জন্মগ্রহণ করেন ১৯৪৬ সালে ফরিদপুরে। তিনি ১৯৬৯ সালে কলকাতার গভর্নমেন্ট কলেজ অব ফাইন আর্টস অ্যান্ড ক্রাফটস্ থেকে চারুকলায় স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। এ প্রদর্শনী নিয়ে তার ৭০টি একক প্রদর্শনী আয়োজিত হয়েছে এবং বহু দলবদ্ধ প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেছেন। বর্তমানে তিনি ফ্রিল্যান্স শিল্পী হিসেবে কাজ করছেন।