ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ন কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করা হয়নি। রবিবার দুপুরে ডিএমপি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মিলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভিকে আটক করা হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, রিজভি সাহেব অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে পুলিশে গাড়িতে করে হাসপাতালে পৌঁছে দেয়। তার ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে অ্যাপলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অসুস্থ ব্যক্তিকে সহায়তা করা পুলিশের দায়িত্ব।
এর আগে গুলশান কার্যালয়ে বেগম জিয়া যান। অসুস্থ রিজভীকে দেখার পর খালেদা জিয়া তার কার্যালয় থেকে বের হতে চাইলে পুলিশ মূল ফটক আটকে রাখে। অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন তিনি। এর এক ঘণ্টা পর রাত পৌনে ১টার দিকে পুলিশের যে গাড়ি ফটকের সামনের রাস্তা আটকে রাখা ছিলে তা সরিয়ে নেয়া হয়।
পরে পুলিশের কর্মকর্তারা বলেন, উনি বাসার যাওয়ার জন্য অলরেডি পারমিটেড।তবে অন্য কোথাও যেতে পারবেন না। খালেদা জিয়া গুলশানের কার্যালয় থেকে সরাসরি বাসায় যেতে পারবেন। এতে কোনো বাধা নেই। তবে বাসা থেকে অন্যকোথাও যেতে পারবেন না। বাইরে যেতে চাইলে প্রয়োজনে পুলিশ বলপ্রয়োগ করবে। আর যদি তিনি বাসায় যেতে না চান তাহলে কার্যালয়েই থাকতে হবে। এরপর পুলিশের ব্যারিকেড তুলে নেয়া হলেও রাতে সেখানেই কাটান।
রবিবার সকালে গুলশান অফিসে গিয়ে দেখা যায় সেখানে বিপুল সংখ্যক পুলিশ অবস্থান করছেন। আশপাশের সব প্রবেশ সড়ক বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানাে হয়েছে, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী তিনি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছেন তাই তার নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে খালেদা জিয়ার বাসভবনের সামনেও বালুর ট্রাকের আদলে পুলিশের দুটি পিকআপ ভ্যান রাখা হয়েছে। সেখানেও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গুলশান কর্যালয় সূত্র জানায়, পুলিশ চাইছে খালেদা জিয়া যেন কার্যালয় থেকে বাসায় যান। সেখানে গেলেই তাকে গৃহবন্দী করা হবে। আর এ জন্যই আপাতত কার্যালয়ে অবস্থান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন।