বিএনপির ডাকা হরতালের মধ্যেই শুক্রবার থেকে টঙ্গীর তুরাগ তীরে শুরু হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। শীত আর অবরোধ উপেক্ষা করে লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে জামাতবদ্ধ হয়ে ট্রেন, নৌকা, বাস, ট্রাক, স্কুটার লেগুনাসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে ইজতেমাস্থলে আসছেন।
ইজতেমাকে ঘিরে নেয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা। বৃহস্পতিবার সকাল ইজতেমাস্থলের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্যাহ মাষ্টার স্টেডিয়ামে মাঠে পুলিশের এক ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, এবারের বিশ্ব ইজতেমায় প্রচলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাইরেও আধুনিক প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যে কোন প্রকার নাশকতা রোধে পুলিশের সব ধরনের প্রন্তুতি রয়েছে। জেলা পুলিশ, আর্ম পুলিশ ব্যটালিয়র, শিল্পপুলিশ, হাইওয় পুলিশ, মেট্টোপুলিশ ও সাদা পোষাকে প্রায়দুই পর্বের ইজতেমা মাঠের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য ১২ হাজারের মতো নিরাপত্তাকর্মী কাজ করবেন।
ব্রিফিংয়ে আরো জানানো হয়, টঙ্গী ব্রীজ থেকে জয়দেবপুর চৌরাস্তা, মন্নুগেট থেকে কামারপাড়া পর্যন্ত এবং তুরাগ নদীসহ পুরো এলাকাকে ৫টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি সেক্টরে একজন করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদমর্যাদার অফিসারের নেতৃত্বে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করবেন। এছাড়া বিভিন্নস্থানে থাকবে চেকপোষ্ট, ওয়াচ টাওয়ার, ইজতেমার প্রতিটি প্রবেশ পথে সিসি ক্যামেরা মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা মনিটরিং করা হবে। এছাড়া বাইনোকুলার, মেটাল ডিটেক্টর, কন্ট্রোল রুমও স্থাপন করা হচ্ছে। তিনি আরো জানান, খিত্তা থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থানে পোশাকে ও সাদা পোষাকে নিরাপত্তা কর্মীরা নিয়োজিত থাকবেন।
এ সময় ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি এসএম মাহফুজুল হক নুরুজ্জামান, গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ পুলিশ বিভিন্ন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ইজতেমা মাঠ এলাকায় র্যারের হেলিকপ্টার টহল দিতে দেখা গেছে।
বিদ্যুত প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বৃহস্পতিবার সকালে ইজতেমার মাঠ পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শন শেষে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি জানান, ইজতেমা মাঠের বিদ্যুতের ঘাটতি হবে না। বিদ্যুতের জন্য সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তিনটা ফিডার থেকে ইজতেমা মাঠে সংযোগ দেয়া হয়েছে। ইমাজেন্সি সাপোর্ট হিসেবে সার্বক্ষনিক স্ট্যান্ডবাই জেনারেটরের রাখা হয়েছে। আশা করি বিদ্যুতের ঘাটতি হবে না।
ইজতেমায় দ্বায়িত্বরত স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসক-কর্মচারিদের ছুটি বাতিল:
মুসুল্লীদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে ইজতেমায় দায়িত্বপালনকারী সকল চিকিৎসক ও কর্মচারীদের ছুটি ৮জানুয়ারি থেকে ১৯জানুয়ারি পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে বলে জানান গাজীপুরের সিভিল সার্জন মো. আনিসুর রহমান।
তিনি আরো জানান, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ মেডিক্যাল অফিসারদের তালিকা ও ডিউটি রোস্টার করা হয়েছে। তিন শিফ্টে ১৬ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়াও ৬৩ জন মেডিক্যাল অফিসার ইজতেমা ময়দানে ডিউটি করবেন। মন্নু গেইট, এটলাস গেইট, বাটা কারাখানার গেইট, বিদেশি মেহমান খানা ও তুরাগের পশ্চিম তীরে আরো ২টি অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্প স্থাপন করা হচ্ছে। টঙ্গী হাসপাতালে এখানে হৃদরোগ, অ্যাজমা, ট্রমা, বার্ণ, চক্ষু এবং ওআরটি কর্ণারসহ বিভিন্ন ইউনিটে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ চিকিৎসা দেবেন। মুসুল্লী রোগীদের হাসপাতালে নেয়ার জন্য সার্বক্ষনিক ১২টি অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন থাকবে। এছাড়া ইজতেমা মাঠের উত্তরে বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে অর্ধশত ফ্রি-মেডিক্যাল ক্যাম্প স্থানের কাজ চলছে।