ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ব্যঙ্গাত্মক ম্যাগাজিন শার্লি হেবদোর দপ্তরে হামলাকারী হিসেবে সন্দেহভাজন দুই ভাইকে খুঁজছে ফরাসি পুলিশ। এরই মধ্যে তৃতীয় এক সন্দেহভাজন আত্মসমর্পণ করেছেন। হামলায় নিহতদের স্মরণে ফ্রান্সে বৃহস্পতিবার এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হয়েছে। আল-জাজিরা, বিবিসি ও রয়টার্স।
ফরাসি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার ওই পত্রিকার দপ্তরে গুলি চালিয়ে ১২ জনকে হত্যার ঘটনায় তিন ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এরা হলেন—সাঈদ কৌচি (৩৪) ও তার ভাই চেরিফ কৌচি (৩২) এবং হামিদ মুরাদ (১৮)। এর মধ্যে হামিদ উত্তর-পূর্ব ফ্রান্সের একটি পুলিশ স্টেশনে আত্মসমর্পণ করেছেন বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন প্যারিসের প্রসিকিউটর অফিসের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
ওই কর্মকর্তা বলেন, চার্লেভাইল-মেজিয়েরেস পুলিশ স্টেশনে স্থানীয় সময় বুধবার রাত ১১টায় হামলায় জড়িত এক ব্যক্তি আত্মসমর্পণ করেন।
অসমর্থিত সূত্রের বরাত দিয়ে বিএফএম টিভি জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে হামলার ঘটনায় জড়িত হিসেবে নিজের নাম দেখতে পেয়ে হামিদ স্বপ্রণোদিত হয়ে আত্মসমর্পণ করেন। আত্মসর্পণকারী কিশোর একজন গৃহহীন বলে ধারণা করছে পুলিশ। এর আগে পুলিশ সাঈদ ও চেরিফ দুই ভাইয়ের ছবিসহ পরিচয় প্রকাশ করে। তারা আত্মসমর্পণকারী ওই কিশোরকে নিয়ে ঘটনার পর একটি প্রাইভেটকারে করে পালিয়ে যায় বলে জানানো হয়েছে। গাড়িটি উত্তর প্যারিস থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া, সন্দেহভাজন দুই ভাইয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত আরো কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে বিএফএম টিভির এক প্রতিবেদন বলা হয়েছে।
প্যারিসে বুধবারের ওই হামলায় নিহত ১২ জনের মধ্যে ১০ জন সাংবাদিক ও দুইজন পুলিশ। সাংবাদিকদের মধ্যে চারজন নামকরা কার্টুনিস্টও রয়েছেন।
এ ঘটনার পর বুধবার সন্ধ্যায় টেলিভিশনে দেয়া এক সংক্ষিপ্ত ভাষণে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ বৃহস্পতিবার এক দিনের জন্য রাষ্ট্রীয় শোক দিবস পালনের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি শনিবার পর্যন্ত দেশটিতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকার ঘোষণাও দেয়া হয়।
ভাষণে ওলাঁদ বলেন, ‘এই নারী ও পুরুষেরা তাদের সেই বিশ্বাসের জন্য প্রাণ দিয়েছেন যা ফ্রান্সে ছিল, আর তা হচ্ছে স্বাধীনতা। আজ তারাই আমাদের বীর।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের সবচে বড় অস্ত্র হচ্ছে—ঐক্য। কোনো কিছুই আমাদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করতে পারবে না, কোনো কিছু আমাদের থামাতে পারবে না এবং কোনো কিছুই আমাদের বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না।’ তিনি ফ্রান্সের এই কঠিন সময়ে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।