শেয়ারবাজারে ব্যাংক-বিনিয়োগ তথ্য সাপ্তাহিক জমার সিদ্ধান্ত

 
 
 
 
শেয়ারবাজারে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ পরিস্থিতির তথ্য দৈনিকের বদলে সাপ্তাহিক একীভূতভাবে জমা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগে সপ্তাহের শেষ দিন ব্যাংকের প্রতিদিনের লেনদেন তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকে জানাতে হতো। বিষয়টি নিয়ে বিএসইসির আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে নতুন এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর এক বৈঠকে নতুন এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সভাকক্ষে গভর্নর ড. আতিউর রহমানের সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ,  রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস এবং মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের লক্ষ্যে নিয়মিত এ ধরনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলোর দৈনিক লেনদেনের তথ্য নেয়ার পরিবর্তে এখন থেকে সপ্তাহের শেষ দিনে তাদের একীভূতভাবে তথ্য নেয়া হবে। দৈনিকের তথ্য নেয়ায় শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছিল উল্লেখ করে বিএসইসি আপত্তি জানিয়েছিল। তাদের আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে এ ধরনের সিদ্ধান্ত হয় ওই বৈঠকে।
জানা গেছে—পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলোর বর্তমান বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে পর্যালোচনা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনার আলোকে বেশির ভাগ ব্যাংক পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ ধীরে-ধীরে আইনি সীমায় নামিয়ে আনছে। আবার সীমার মধ্যে থাকা অনেক ব্যাংক নতুন করে বিনিয়োগ করছে। সব মিলিয়ে গত নভেম্বর পর্যন্ত এক বছরে পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতের নিট বিনিয়োগ বেড়েছে ৯৪৬ কোটি টাকা। যদিও এ সময় শেয়ারবাজারের মোট বিনিয়োগে ব্যাংক খাতের অংশ কমে ৪৩ দশমিক ৬২ শতাংশে নেমে এসেছে। আগের বছরের একই সময়ে মোট বিনিয়োগে ব্যাংকগুলোর অংশ ছিল ৫০ দশমিক ৬২ শতাংশ। মূলত শেয়ারবাজারে নতুন করে অনেক কোম্পানির তালিকাভুক্ত, ব্যাংক বহির্ভূত প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ বাড়ার কারণে এ সময় ব্যাংকগুলোর ৯৪৬ কোটি টাকা বিনিয়োগ বাড়লেও সামগ্রিক বিনিয়োগে অংশ কমেছে।