২০ দলের অবরোধে গত সপ্তাহ জুড়ে রাজধানী ঢাকায় দুটি সিন্ডিকেট বোমাবাজি চালিয়েছে। এই দুটি সিন্ডিকেটের একটি নিয়ন্ত্রণ করে পুরান ঢাকার গ্রুপ, অপরটি রমনা এলাকার গ্রুপ। এ গ্রুপ দু’টির বিস্তারিত তথ্য হাতে পেয়েছে গোয়েন্দারা। এদের গ্রেফতার অভিযানে মাঠে নেমে পড়েছে পুলিশ।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বোম স্কোয়াড টিমের সহকারী পুলিশ কমিশনার হাসান আরাফাত বলেন, অবরোধকে ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষিপ্ত বোমাবাজির চেষ্টা করা হচ্ছে। এই অপকর্ম যে দুর্বৃত্তরা করছে তাদের সনাক্ত করা হয়েছে। শীঘ্রই এরা ধরা পড়বে। সম্প্রতি বিস্ফোরিত বোমা সম্পর্কে তিনি বলেন, এসব বোমার মধ্যে মারবেল ও লোহার বল ব্যবহার করছে দুর্বৃত্তরা। পুলিশের এ গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, এসব বোমা পেশাদার বোমাবাজদের তৈরি বলেই প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে পুলিশের এ গোয়েন্দা কর্মকর্তা তাদের নাম প্রকাশ করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশসূত্র জানায়, গত এক সপ্তাহে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অবরোধে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করতে দেড় শতাধিক বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা। কিন্তু এ পর্যন্ত বোমা বিস্ফোরণের সময় হাতেনাতে কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে টাকার বিনিময়ে যারা এসব বোমা তৈরি করে দেয় সেই ‘কারিগরদের’ একাধিক জনের সঙ্গে পুলিশ কথা বলেছে। তারাই ফাঁস করে দিয়েছে বোমাবাজদের নাম। তাদের দেয়া তথ্যমতেই সনাক্ত করা হয় দুই সিন্ডিকেট। এ সিন্ডিকেট চক্রই গত বছর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বাসে অগ্নিসংযোগ ও বোমাবাজির ঘটনায় গ্রেফতারও হয়েছিল। বেশ কয়েক মাস আগে তারা জামিনে মুক্তি পেয়ে আবার নেমে পড়েছে এই কাজে।
বোমা তৈরির সঙ্গে সম্পৃক্তরা পুলিশকে জানিয়েছে, তাদেরকে বোমা তৈরির প্রয়োজনীয় রসদ ওই সিন্ডিকেটই সরবরাহ করে। আর প্রতিটি বোমা তৈরি বাবদ তারা পায় ৫’শ থেকে এক হাজার টাকা। আর অর্ডার অনুযায়ী বোমা তৈরির পরই ওই সিন্ডিকেটের লোকজনই তাদের কাছ থেকে বুঝে নেয়। কে কোথায় বোমার বিস্ফোরণ ঘটবে তা নির্ধারণের দায়িত্বও ওই সিন্ডিকেটের।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার শিবলী নোমান বলেন, পুলিশের সতর্ক নজরদারীর কারণে এবার বোমাবাজরা রাতের আঁধারে বিস্ফোরণ ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করছে। রমনার কেন্দ্রীয় সিন্ডিকেট সম্পর্কে তিনি বলেন, এ চক্রটি গত বছর শিশুপার্ক ও পরীবাগ এলাকায় দুইটি বাসে পেট্রোল বোমা মেরেছিল। তাদেরকে গ্রেফতারে গোয়েন্দা পুলিশের পাশাপাশি থানা পুলিশও কাজ শুরু করেছে।