চাষী নজরুল ইসলাম আর নেই

 
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও একুশে পদকজয়ী চলচ্চিত্র নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলাম আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রবিবার ভোর ছয়টার দিকে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।  
বেশ কিছুদিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন চাষী নজরুল। গত বুধবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে সাধারণ কেবিন থেকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়।এরপর শনিবার সকালের দিকে রক্তচাপ মারাত্মকভাবে কমে গেলে এবং তার শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট হলে, কৃত্রিমভাবেই তার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যবস্থা করা হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে ভুগছিলেন। 
চাষী নজরুল ইসলামের জন্ম ১৯৪১ সালের ২৩ অক্টোবর শ্রীনগর থানার সমষপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মোসলেহ উদ্দিন খান ও মায়ের নাম শায়েস্তা খানম। চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়।
১৯৬১ সালে ফতেহ লোহানীর ‘আছিয়া’ সিনেমার সহকারী পরিচালক হিসেবে চলচ্চিত্রে আসেন চাষী নজরুল ইসলাম। এরপর পরিচালক ওয়াহেদ-উল-হকের সঙ্গেও বেশ কিছু দিন সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’ পরিচালনা করেন ১৯৭২ সালে। এরপর ‘সংগ্রাম’, ‘ভালো মানুষ’,  ‘বাজিমাত’, ‘বেহুলা লন্দির’, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা, ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’, ‘হাসন রাজা’, ‘মেঘের পরে মেঘ’, ‘শাস্তি’ ও ‘সুভা’র মতো সিনেমা নির্মাণ করেছেন তিনি।
১৯৮৬ সালে ‘শুভদা’, ১৯৯৭ সালে ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ চলচ্চিত্রের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। ২০০৪ সালে পেয়েছেন একুশে পদক।