দুনিয়া ও আখেরাতের শান্তি কামনার পাশাপাশি বিশ্বমুসলিম উম্মাহর সুখ-শান্তি, সমৃদ্ধি, সংহতি, অগ্রগতি এবং দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণ কামনা করে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শেষ হয়েছে। খবর: বাসসের।
রবিবার সকাল ১১টা ২০ মিনিটে মোনাজাত শুরু হয় এবং শেষ হয় ১১টা ৪৮ মিনিটে। মোনাজাত পরিচালনা করেন দিল্লি মারকাজের শুরা সদস্য মাওলানা সাদ।
রাজধানীর উপকণ্ঠে টঙ্গির তুরাগ নদের তীরে অনুষ্ঠিত বহু কক্সিক্ষত এই আখেরি মোনাজাতে লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি মহান রাব্বুল আলামীনের দরবারে রহমত ও হেদায়েত প্রার্থনা করেছেন। নিজ নিজ গুনাহ্ মাফ ও আত্মশুদ্ধি চেয়েছেন। এ সময় মহান আল্লাহ পাকের অশেষ মহিমায় আবেগ-আপ্লুত লাখো মুসল্লির কণ্ঠে উচ্চারিত ‘আমিন, আমিন’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠে তুরাগ তীর। অশ্রুসিক্ত নয়নে আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণে ব্যাকুল হয়ে পড়েন অনেক মুসল্লি। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ তার পরিবারসহ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে বঙ্গভবনে দরবার হলে বসে বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানী ঢাকায় গণভবনে বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন।
এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক , স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, জাহিদ আহসান রাসেলসহ আরো কয়েকজন সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশের কূটনৈতিক মিশনের সদস্য ও পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাগণসহ লাখ লাখ মুসল্লি মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন।
প্রথম পর্বের তিন দিনব্যাপী বিশ্ব ইজতেমায় আখেরি মোনাজাতে বহির্বিশ্বের প্রায় ১০ সহস্রাধিক মুসল্লিসহ লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন।
মোনাজাতের আগে মাওলানা সাদ ঈমান ও আমলের ওপর বিভিন্ন হেদায়েতী বয়ানে বলেন, দুনিয়ার চেয়ে আখেরাতের প্রতি আমাদের বেশি করে খেয়াল রাখতে হবে। দুনিয়ার জিন্দেগীর চেয়ে আখেরাতের জিন্দেগি হলো স্থা য়ী। তাই আমাদের ঈমানকে শক্তিশালী করে আখেরাতের জিন্দেগির দিকে ধাবিত হতে হবে। আল্লাহর কাছে কান্না-কাটি করে মা চেয়ে পাপমুক্ত হতে হবে। মোনাজাতের সময় গোটা টঙ্গি এলাকা আল্লাহ-আল্লাহ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে।
বিশ্ব ইজতেমা প্রথম দফায় তিন দিনব্যাপী মুসলিম বিশ্বের এই দ্বিতীয় বৃহত্তম জমায়েতের শেষ দিনে রবিবার ভোর থেকেই আখেরি মোনাজাতে শামিল হতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা রাজধানী ঢাকা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী গাজীপুর, নরসিংদী, ভৈরব, সাভার, মানিকগঞ্জ, কালিয়াকৈর, কালীগঞ্জ, শ্রীপুর ও কাপাসিয়াসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ইজতেমা ময়দানে আসেন। ট্রেন, বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, জীপ, কার এবং নৌকাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে ইজতেমা ময়দানে পৌঁছান ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। এছাড়া ভোর থেকেই রাজধানীর খিলখেত¯’ বিশ্বরোড থেকে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হলে যানবাহনের অভাবে সকাল থেকেই দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে ইজতেমা অভিমুখে ছুটতে থাকে কাফেলার পর কাফেলা। এতে তুরাগের তীরকে কেন্দ্র করে কয়েক বর্গকিলোমিটার জুড়ে ধর্মপ্রাণ মানুষের বিশাল মানব বলয় সৃষ্টি হয়। মোনাজাত শুরুর আগেই সকাল ১০টার মধ্যে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় তুরাগ তীরের পুরো ইজতেমাস্থ ল ও চারপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা।
আগামী ১৬ জানুয়ারি শুরু হবে ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব। ১৮ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে ঐ পর্বের বিশ্ব ইজতেমা শেষ হবে।